১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগে ভারতের উদ্বেগ—চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে সন্দেহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
spot_img
spot_img

প্রায় ৫৪ বছর ধরে বন্ধ থাকা লালমনিরহাট বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। অথচ এই পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে প্রতিবেশী ভারত। দেশটির আশঙ্কা, চীনের সহায়তায় বিমানবন্দরটি সচল করা হচ্ছে, যা তাদের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি—র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরটির অবস্থান ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে, এবং এটি সিলিগুড়ি করিডরের নিকটে—যা ‘চিকেন নেক’ নামে পরিচিত।
তবে মানচিত্র ও জিপিএস বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিমানবন্দরটি আসলে শিলিগুড়ি করিডর থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে, এনডিটিভির দাবি অনুযায়ী নয়।

রত্মদ্বীপ চৌধুরীর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, যদি চীন এই প্রকল্পে জড়িত থাকে, তাহলে সেখানে ফাইটার জেট, রাডার, ও নজরদারি সরঞ্জাম বসানো হতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত উত্তর—পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরার কাইলাশহর বিমানবন্দর সংস্কারে হাত দিয়েছে। যদিও এটিকে বেসামরিক বিমানবন্দর হিসেবেই ব্যবহার করা হবে, তবুও তা সামরিক প্রয়োজনে প্রস্তুত রাখা হবে। ভারতের দৃষ্টিতে, এটি শুধু প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত বার্তাও।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ভারত—বাংলাদেশ সম্পর্কের উষ্ণতা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির ইঙ্গিতও এতে দেওয়া হয়েছে। ফলে লালমনিরহাটে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ বাড়ছে।

ভারত পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৯০—এর দশকে বন্ধ হয়ে যাওয়া কাইলাশহর বিমানবন্দর পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে, এই বিমানবন্দরটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘কাইলো ফ্লাইট’ নামে একটি বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা বিমান দল ব্যবহার করত, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সূচনা ঘটায়।

রত্মদ্বীপ আরও জানান, ত্রিপুরায় বর্তমানে একমাত্র বড় বিমানবন্দর হচ্ছে আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর। কাইলাশহর চালু হলে রাজ্যের বিমানযোগাযোগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। ইতোমধ্যে ২০২৫ সালের ২৬ মে বিমানবন্দর পরিদর্শন করেছে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, এই বিমানবন্দর সচলের পেছনে রয়েছে অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণ। সেনাসদরে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মিলিটারি অপারেশন্সের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম—উল—দৌলা বলেন, “লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকলেও জাতীয় প্রয়োজনেই এটিকে পুনরায় সচল করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরটির পরিধি ও অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং তা এয়ারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, “এটি একটি জাতীয় সম্পদ, এবং দেশের প্রয়োজনে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।

Purchase Verified Gmail Accounts – Click Here :Gmail Accounts

সর্বশেষ নিউজ