১৬ এপ্রিল ২০২৬, বৃহস্পতিবার

নির্বাচনি রোডম্যাপ কবে, কতটা প্রস্তুত ইসি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো সরকারের কোনো নির্দেশনা পায়নি, তবে ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশন নিজেরা কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের নির্দেশনার বিষয় থাকে; তবে সব আয়োজন করতে হয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনকে। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে ভোটার তালিকা, আইন—বিধি—নীতিমালা সংস্কার, সংলাপ, সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাস, নতুন দল নিবন্ধন, পর্যবেক্ষক নিবন্ধনসহ বেশ কিছু কাজ করতে হয়।

বিশাল এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে সাধারণত প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে একটি কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রকাশ করে থাকে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের অন্তত দেড় বছর আগে এই রোডম্যাপ প্রকাশ করে থাকে ইসি।

রোডম্যাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা
গণঅভ্যুত্থান—পরবর্তী বাংলাদেশে নির্বাচন প্রশ্নে অনেক ‘যদি—কিন্তু’ রয়েছে। যে কারণে সাংবিধানিক কিংবা আইনি প্রশ্নগুলোর পরিবর্তে নির্বাচনের তারিখ ইস্যুতে ঐকমত্যের প্রশ্নই সামনে আসছে। আর এসব কারণে এবার নির্বাচনি রোডম্যাপ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দ্বিধা রয়েছে খোদ নির্বাচন কমিশনের।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এখন রোডম্যাপ প্রকাশের মতো সময় এসেছি কিনা আমরা জানি না। তবে, প্রাথমিকভাবে যে সব প্রস্তুতি নেওয়া দরকার সেটি আমরা নিচ্ছি।”

ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজের তালিকা তৈরি করে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০২২ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আগের কমিশন রোডম্যাপ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু এবার নির্বাচনকাল চূড়ান্ত না হওয়ায়, বর্তমান কমিশন রোডম্যাপ ঘোষণার তারিখও নির্ধারণ করতে পারছে না।

যদিও, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, তারা জুন—জুলাইয়ের মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করার কথা ভাবছেন।

নির্বাচনি রোডম্যাপ কী?
সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার নামই রোডম্যাপ। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মাসখানেকের মাথায় পদত্যাগ করেন হাবিবুল আউয়ালসহ তার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের সব সদস্য। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে।

নির্বাচন বিশ্লেষক ও ইসির সাবেক কর্মকর্তা জেসমিন টুলী বলেন, “রোডম্যাপে থাকে— কোন কাজ কখন, কিভাবে শেষ হবে তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা। এটি ইসির জন্য যেমন জরুরি, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও।”

তিনি বলেন, “সঠিক তারিখ না থাকলেও একটা কাছাকাছি ধারণা থাকা জরুরি। এতে করে কাজের অগ্রগতি পরিমাপ সম্ভব হয়।”

কী কী থাকে রোডম্যাপে?
শেষ জাতীয় নির্বাচনের আগে ইসি ১২টি কার্যক্রম নিয়ে একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করেছিল। এর মধ্যে ছিল:

ভোটার তালিকা হালনাগাদ

নতুন দল নিবন্ধন

আসন সীমানা নির্ধারণ

নির্বাচনি আচরণবিধি

পর্যবেক্ষক নীতিমালা

ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা

ভোটারের বয়সসীমা ও প্রবাসীদের ভোটাধিকার

নির্বাচনি সরঞ্জাম ক্রয়

ব্যালট পেপার ও কর্মকর্তাদের নিয়োগ

ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, আমরা ব্যালট বাক্স, কালি, স্ট্যাম্প প্যাড ইত্যাদি সংগ্রহে নিয়েছি। এর জন্য বাজেট চাওয়া হয়েছে।”

রাজনৈতিক ঐকমত্যের অপেক্ষায় ইসি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত সংস্কার কমিশনের বিভিন্ন সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। এ পর্যন্ত ৯টি প্রস্তাবের মধ্যে বেশ কিছু আশু বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

ইসি এসব বাস্তবায়নে সময় ও অর্থ প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে মতামত পাঠিয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, ঐকমত্যের ভিত্তিতে যদি সংসদীয় আসনের সীমানা বা ভোটার বয়সে পরিবর্তন আসে, তাহলে আগাম প্রস্তুতির অনেক কিছুই আর কার্যকর থাকবে না। এজন্য রোডম্যাপের আগে রাজনৈতিক ঐকমত্য অপরিহার্য।

জেসমিন টুলী বলেন, নির্বাচনি কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ইসি ঐকমত্য কমিশনের দিকে তাকিয়ে থাকবে না। প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি।

ইসির সিনিয়র সচিব বলেন, “আমাদের লক্ষ্য—ভোট হবে। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

সর্বশেষ নিউজ