ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে আদালতের রায়ে গেজেট পেলেও মেয়াদ শেষ হয়ে গেল বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের। কারণ, পাঁচ বছর আগে নির্বাচিত মেয়রের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১ জুন, যার ধারাবাহিকতায় ইশরাকেরও কার্যত মেয়াদ শেষ হয়েছে—যদিও তিনি শপথই নিতে পারেননি।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ডিএসসিসির নির্বাচন, যার গেজেট প্রকাশিত হয় ২ ফেব্রুয়ারি। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হয়ে ২ জুন ২০২০ প্রথম সভা করেন। সিটি করপোরেশন আইনে বলা হয়েছে, প্রথম সভার দিন থেকেই করপোরেশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ গণনা শুরু হবে—অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হলো ২০২৫ সালের ১ জুন।
এদিকে, নির্বাচনে অনিয়ম ও ফলাফল বাতিল চেয়ে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন ২০২০ সালের ৩ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনাল তাপসের নির্বাচিত হওয়া বাতিল করে ইশরাককে বিজয়ী ঘোষণা করতে নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন (ইসি) গেজেট সংশোধন করে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে—তবে নতুন করে নয়, পুরোনো গেজেটে তাপসের নামের জায়গায় ইশরাকের নাম প্রতিস্থাপন করে।
কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখনও তাকে শপথ পড়ায়নি। ফলে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগই পাননি ইশরাক।
ইশরাক ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ইশরাকের বিষয়ে আদালতের কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা এখনো পাইনি। কোনো কাগজ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য বা পদক্ষেপ নিতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “মেয়াদের শেষদিন হোক বা শুরু—দুটির ক্ষেত্রেই আমাদের অবস্থান একই। আদালত থেকে কাগজ পেলে কমিশন আইনগত সিদ্ধান্ত নেবে।”
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু নতুন করে নয়, পূর্বের গেজেটে শুধুমাত্র নাম প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, তাই মেয়াদের গণনাও সেই অনুযায়ী তাপসের সময় থেকেই ধরা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নির্বাচনে তাপস পেয়েছিলেন প্রায় ৪ লাখ ২৪ হাজার ভোট, আর ইশরাক পেয়েছিলেন ২ লাখ ৩৬ হাজারের কিছু বেশি ভোট। ইশরাক ফল বাতিল চেয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন।

