এলাকার বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পণ্যবাহী গাড়ি থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হওয়া নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঢাকার মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল রোববার গভীর রাতে (রাত ১টা ৩০ মিনিটে) স্বজনদের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এবং ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ সোমবার (২২ জুন ২০২৬) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, সজীবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত চাঁদাবাজির অভিযোগের বক্তব্যগুলো বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বসুন্ধরা থেকে ডিবি কার্যালয়: যেভাবে নাটকীয় আটক
সংশ্লিষ্ট ও পুলিশ সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশের পর রোববার দুপুরে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় সজীবকে হেফাজতে নেয় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ। প্রথমে তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পরবর্তীতে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সদরদপ্তরের বিশেষ নির্দেশনায় রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকার মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং গভীর রাতে মুচলেকা দিয়ে তিনি ছাড়া পান।
বড় শিল্প গ্রুপে চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসার অভিযোগ
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জ, সোনারগাঁও ও কাঁচপুর এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানার মালিকদের ওপর সজীবের অনুসারীদের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। সম্প্রতি সজীবের লোকজন একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর পণ্যবাহী গাড়ি আটকে রেখে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। পরবর্তীতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
এছাড়াও বিভিন্ন কারখানার মালামাল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করে টাকা আদায় এবং পুরো এলাকার ঝুট ব্যবসা জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণসহ নানা চাঁদাবাজির অভিযোগ জমা পড়ে পুলিশের কাছে। চাহিদামতো টাকা না পেলে কারখানার উৎপাদন ও পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে সজীবের বিরুদ্ধে।
অপকর্মের দায় নেবে না দল: যুবদল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার
খাইরুল ইসলাম সজীব নিজে জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তবে ডিবি পুলিশ কর্তৃক তাকে হেফাজতে নেওয়ার খবর চাউর হওয়ার পরপরই রোববার রাতে দল থেকে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল।
যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি (দপ্তরের দায়িত্বে) নুরুল ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজিতে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সজীবকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে দল স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, সজীবের কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না এবং যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সাথে কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হলো।
একনজরে পুরো ঘটনা ও বর্তমান আইনগত অবস্থা
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযুক্তের পরিচয় | খাইরুল ইসলাম সজীব (এমপিপুত্র ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা) |
| পিতার নাম ও রাজনৈতিক পদ | আজহারুল ইসলাম মান্নান (এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ ও সোনারগাঁ বিএনপি সভাপতি) |
| প্রধান অভিযোগসমূহ | বড় শিল্প গ্রুপের গাড়ি আটকে চাঁদা দাবি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত চাঁদাবাজি |
| আটক ও মুক্তির সময় | রোববার (২১ জুন) দুপুরে আটক; সোমবার (২২ জুন) রাত ১:৩০ মিনিটে মুক্তি |
| বর্তমান আইনি অবস্থা | আত্মীয়দের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে মুক্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই চলছে |
| সাংগঠনিক একশন | যুবদলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ স্থায়ী বহিষ্কার |

