ছাত্রদের আজকের এ অবস্থার জন্য আমরা সবাই দায়ী: সাংবাদিক আবু রুশদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ও বর্তমান সাংবাদিক আবু রুশদ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কিছু তরুণের অধঃপতন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের সাহসী যুবসমাজ আজ যে দিকভ্রান্ত ও বৈরিতাপূর্ণ পরিবেশে পড়েছে, তার জন্য সবাই সমানভাবে দায়ী।

সোমবার (২৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার এ উদ্বেগের কথা জানান তিনি।

সাংবাদিক আবু রুশদ বলেন, যখন দরকার ছিল তরুণদের সুস্থির হওয়ার পথ দেখানো, ট্রমা থেকে বের করে আনা, স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা এবং সকল রাজনৈতিক দলের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা, তখনই একদল ‘কাপালিক সাধু’ তাদের মাথায় একের পর এক ইস্যু চাপিয়ে দিয়ে অস্থির করে তুলেছে। এতে তরুণরা ধীরে ধীরে সবার প্রতি শত্রুতা তৈরি করেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক রুলস-বেসড অর্ডার বা বিশ্ব নীতিমালার বাস্তব ধারণা না থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রভাবশালী মহল ধারাবাহিকভাবে তরুণদের উস্কে দিয়েছে। পিটিএসডিতে ভোগা এই তরুণদের প্রতিদিন নতুন উন্মাদনার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়নি।

আবু রুশদ অতীত ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলেন, ১৯৭১ সালের পর সিরাজুল আলম খানের মতো ব্যক্তিরা মুক্তিযোদ্ধাদের মেধাবী অংশকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখিয়ে ধ্বংস করেছিল। তাতে ৩০ হাজার মেধাবী প্রাণ হারিয়েছিল, লাখো মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়েছিল, আর সেনা ও বিমানবাহিনীতে একের পর এক অভ্যুত্থান হয়েছিল। ঠিক তেমনই আজও কাপালিক সাধুরা তরুণদের দাবার গুটির মতো ব্যবহার করছে।

তিনি সমালোচনা করেন যে বিএনপি, জামায়াতসহ বড় রাজনৈতিক দলগুলোও তরুণদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং শূন্য মাঠে কাপালিক সাধুরা তাদের হাতের খেলনা বানিয়ে ফেলেছে।

শেষে আবু রুশদ বলেন, আমরা সবাই দায়ী। আমাদের ঋণ শোধ করার পরিবর্তে আমরা সবচেয়ে সাহসী প্রজন্মকে তুলে দিয়েছি ক্রিমিনাল মাইন্ডেড ব্যক্তিদের হাতে। উন্মাদনা, হুজুগ, গুজব—সবকিছু মিলে সব শেষ হতে চলেছে। আড়ালের হ্যান্ডলাররা খুশি, কারণ ইতিহাসে এত সফল মানসিক যুদ্ধ খুব কমই দেখা গেছে।

সর্বশেষ নিউজ