স্ত্রীর হিজাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি ও ব্যঙ্গ–বিদ্রুপের জবাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক, লেখক এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিতর্কিত লেখক তসলিমা নাসরিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ফেসবুকে দেয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল লেখেন, তাঁর স্ত্রী শীলা নিজের সিদ্ধান্তেই হিজাব করেছেন। কেউ চাপিয়ে দেয়নি, বরং শুরুতে হিজাবের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লেও তা বদলানোর কথা ভাবেননি তিনি।
‘মানুষ কেন ভাবতে পারে না যে মেয়েরা নিজের ইচ্ছায় ইসলামী জীবন বেছে নিতে পারে’
ফেসবুকে আসিফ নজরুল লিখেছেন, ২০১২ সালে শীলার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দুই বছর পর কন্যা আরিনার জন্ম। এরপর থেকে শীলা হিজাব করা শুরু করেন।
তাঁর ভাষায়, “আমাদের তখন একটা গাড়ি ছিল। বাচ্চাদের স্কুলে নিতে-আসতে ব্যস্ত থাকতো। আমাকে ও শীলাকে রিকশা–সিএনজিতে চলতে হতো। মাথা ভিজে শীলা অসুস্থ হয়ে যেত। কিন্তু কোনও অবস্থাতেই হিজাব ছাড়েনি সে।”
হিজাব শুরুর কিছুদিন পর এক দাওয়াতে গেলে স্বনামধন্য এক আইনজীবী তাঁর দিকে ‘ভৎসনার চোখে’ তাকান বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “অনেকে ভাবেন শীলা বোধহয় আমার কারণেই হিজাব করছে। মানুষ কেন ভাবতে পারে না একটা মেয়ে নিজের ইচ্ছায় ইসলামী জীবন বেছে নিতে পারে!”
অভিনেত্রী পরিচয়ের ছায়া—এখনো
শীলা ১৪ বছর বয়সে অভিনয় ছেড়ে দেন। জাতীয় পুরস্কার পেলেও মঞ্চে গিয়ে পুরস্কার নেননি। পরে মাত্র একবার, স্কুলের ফান্ডের অনুরোধে, অভিনয়ে ফেরেন। সে গল্পও পোস্টে উঠে আসে।
তিনি বলেন, “বহু অনুরোধ পেয়েও অভিনয়ে ফেরেনি। কিন্তু সমাজের এক শ্রেণি এখনো তাকে ‘অভিনেত্রী’ আর ‘হিজাবি’ হিসেবেই দেখে,” লিখেছেন আসিফ নজরুল।
এখন শীলা দেশের অন্যতম প্রভাবশালী দূতাবাসে ‘ইকোনমিক অ্যান্ড কমার্শিয়াল স্পেশালিস্ট’ হিসেবে কাজ করেন—এটিও তুলে ধরেছেন তিনি।
‘ধর্মের পথে আমাকে শীলাই নিয়ে গেছে’
স্ট্যাটাসে ব্যক্তিগত জীবনের একটি আবেগঘন অংশও শেয়ার করেন আসিফ নজরুল।
তিনি বলেন, “শীলাই বরং আমাকে ধর্মের পথে এনেছে। ফজরের আজানে ঘুম থেকে তোলে, যাকাত ঠিকমতো দিচ্ছি কিনা দেখে, আমাকেই বুঝিয়ে হজে নিয়ে গেছে।”
মায়ের মৃত্যুর পর নিজের জন্য দোয়া করার মানুষ কে হবে, এই দুঃখও লেখায় এসেছে।
কথাগুলো উদ্ধৃত করে লিখেছেন, “অপবাদ, হুমকি, মিথ্যাচারের মাঝেও শীলা কোরআন নিয়ে বসে। যত বিপদ এসেছে, শেষ পর্যন্ত কোনোটাই আমাকে ক্ষতি করতে পারেনি।”
তসলিমা নাসরিনকে উদ্দেশ করে পরোক্ষ বার্তা
বিতর্কিত লেখক তসলিমা নাসরিনের সাম্প্রতিক পোস্টকে ‘অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেন তিনি।
তার ভাষায়— “দোয়া করি, আপনার জীবনে কোনোদিন হেদায়েত আসুক। আল্লাহর দয়া ক্ষমতা ও খ্যাতির চেয়েও বড়—এটা আপনি বুঝবেন।”

