১১ মে ২০২৬, সোমবার

জোট না একক লড়াই? স্থানীয় নির্বাচনে নতুন সমীকরণে জামায়াত-এনসিপি

অনলাইন ডেস্ক
spot_img
spot_img

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল বাজতে না বাজতেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে সরব হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার পথে হাঁটার ইঙ্গিত থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে দুই দলের মধ্যে দেখা দিয়েছে কৌশলগত দূরত্ব। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কে কোথায় প্রার্থী দেবে—তা নিয়ে শুরু হয়েছে নীরব প্রতিযোগিতা।

ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে দুই দলের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। জামায়াত ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে এনসিপি দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে সামনে এনে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। ফলে রাজধানীর এই গুরুত্বপূর্ণ সিটিতে সমঝোতার সম্ভাবনা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

শুধু ঢাকা নয়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনেও দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে মহানগর আমির আব্দুল জাব্বারের নাম আলোচনায় থাকলেও এনসিপিতে সদ্য যোগ দেওয়া আলী আহসান জোনায়েদের নাম ঘুরছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, সিটি করপোরেশন পর্যায়ে ১১ দলীয় জোটের সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে এককভাবে নির্বাচন করতে চায় দুই দলই। বিশেষ করে এনসিপি নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠের জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাইছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবি, দেশের প্রায় সব সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ৬০০ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে দলটির। চলতি মাসেই ধাপে ধাপে প্রার্থী ঘোষণা শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে জামায়াতও স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। দলটির নেতারা বলছেন, জাতীয় রাজনীতিতে জোটগত অবস্থান বজায় রাখলেও স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় শক্তি জানান দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবার শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের লড়াই নয়; বরং আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে কার সাংগঠনিক ভিত্তি কতটা শক্ত—তারও বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

সর্বশেষ নিউজ