১১ মে ২০২৬, সোমবার

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর হচ্ছে আহমদ ছফার কবর

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img
দেশের বিশিষ্ট লেখক ও চিন্তাবিদ আহমদ ছফার কবর মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। লেখকের পরিবারের পক্ষ থেকে করা একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিএনসিসির সমাজকল্যাণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি পরিবারের পক্ষ থেকে নুরুল আনোয়ার এই স্থানান্তরের আবেদনটি করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজসেবাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে লেখক আহমদ ছফার অসামান্য অবদান রয়েছে। কিন্তু তাকে এ পর্যন্ত সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। এই অসামান্য অবদানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্যই তার কবরটি সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে বুদ্ধিজীবী গোরস্থানে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। বর্তমানে মিরপুর সাধারণ কবরস্থানে তার কবর নম্বর-১০৮০।

এই আবেদন পাওয়ার পর গত ১৩ এপ্রিল নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় আহমদ ছফার কবরটি স্থানান্তরের বিষয়টি এজেন্ডা হিসেবে নিয়ে আলোচনা করা হয়। আলোচনার পর সভার সকল সদস্য লেখকের কবরটি মিরপুর সাধারণ কবরস্থান থেকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সম্মতি প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১) ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক। ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। চট্টগ্রামে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের লেখাপড়া শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

ষাটের দশকে তার সাহিত্যজীবনের সূচনা ঘটে। গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ ও শিশুসাহিত্যসহ সাহিত্যের নানা শাখায় তিনি উল্লেখযোগ্য কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সাহিত্য-সাময়িকপত্রও সম্পাদনা করেছেন। তার আখ্যানমূলক রচনায় বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা, মুক্তিকামনা, স্বাধীনতাস্পৃহা এবং সামাজিক অসঙ্গতি ও বৈষম্যের চিত্র গভীরভাবে রূপায়িত হয়েছে।

সর্বশেষ নিউজ