মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে দাবি করে আসছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ইসরায়েল এবং পুরো বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি। যতদিন পর্যন্ত ইরানের এই পারমাণবিক ঝুঁকি সম্পূর্ণ অপসারণ না হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ও ছায়াযুদ্ধের অবসান হবে না।
জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ বিষয়ক অঙ্গসংস্থা আইএইএ (IAEA)-এর তথ্য অনুসারে, ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশুদ্ধতার মাত্রা যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তবে তা দিয়ে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব। মূলত এই বিষয়টি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের উদ্বেগ রয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঠেকাতে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগ করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সরাসরি সামরিক পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। তবে তারা সবসময়ই সতর্ক করে আসছেন যে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে “সব বিকল্প টেবিলে খোলা আছে।”
অতীতে ইরানের পরমাণু চুক্তি (JCPOA) নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষভাবে বিভিন্ন সময় আলোচনা হলেও, তা কোনো চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। কূটনৈতিক এই অচলাবস্থার কারণে ইসরায়েল মনে করে, ইরান তাদের গোপন স্থাপনাগুলোতে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই সংঘাত কবে শেষ হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময়রেখা নেই। তবে ইসরায়েলের স্পষ্ট অবস্থান— পরমাণু ইস্যুতে ইরানের সক্ষমতা হ্রাস বা অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব।

