বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন হেড কোচ কে হচ্ছেন—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কোচ ঘোষণার সম্ভাব্য তারিখ কয়েক দফা পেছালেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় নিচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ইতিমধ্যে ১১ জন সম্ভাব্য কোচের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে তাদের অনলাইন সাক্ষাৎকার পর্ব শেষ করেছে দেশের ফুটবলের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
গতকাল ফর্টিসে জাতীয় দল ম্যানেজমেন্ট কমিটির এক জরুরি সভা শেষে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানান, আগামী ১৫ মে’র মধ্যেই কোচ নিয়োগের পুরো বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্লেষণ করে ১১ জনকে অনলাইন ইন্টারভিউতে ডেকেছিলাম। এই আলোচনা চলমান রয়েছে। ১৫ মে আমরা এর সমাপ্তি টানব এবং আপনাদের সামনে বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরব।”
কোচ নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতে ব্রাজিলিয়ান কোচ রোজেরিও মিকেলের নাম আলোচনায় থাকলেও, আবেদন করার পর তিনি সেটি প্রত্যাহার করে অন্য ক্লাবে যোগ দিয়েছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কৌশলগত কারণে কোনো নির্দিষ্ট নাম প্রকাশ করতে চাননি বাফুফে সভাপতি। তবে পুরো প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তাবিথ আউয়াল আরও বলেন, “আমরা ১৫ মে তারিখটিকে একটি শেষ সময় হিসেবে ঠিক করেছি। এই সময়ের মধ্যে যেমন আমরা আরও কয়েকজন কোচের সঙ্গে কথা বলে আমাদের সুযোগগুলো যাচাই করছি, তেমনি ওই কোচরাও হয়তো অন্যান্য জায়গার সাথে কথা বলে রাখছেন। ১৫ তারিখের আগে দুই পক্ষই নিজেদের জন্য সেরা বিকল্পটি বেছে নেওয়ার সুযোগ খোলা রেখেছে।”
বাফুফে এবার শুধু দ্রুত কোচ নিয়োগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী দুই বছরে জাতীয় দলকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, আলোচনায় সেটিই প্রাধান্য পাচ্ছে। নির্দিষ্ট কোনো নামের চেয়ে দেশের ফুটবলের জন্য সবচেয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকেই নজর কর্তৃপক্ষের।
কোচের বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কাজ করছে বাফুফে। এ বিষয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, “আমাদের নিশ্চয়ই একটি নির্দিষ্ট বাজেট আছে। যদি সেই বাজেট বাড়ানোর প্রয়োজন হয়, আমরা আমাদের স্পনসরদের সঙ্গে কথা বলব—সেই পথ আমরা খোলা রেখেছি। আমরা কিছু ডোনার অর্গানাইজেশন এবং ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলে রেখেছি।”

