ফেনীর দাগনভূঞায় মাদকের টাকার জন্য নিজের জন্মদাত্রী মাকে নৃশংসভাবে খুন করেছে এক যুবক। ফেনীতে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু-এর এই ঘটনায় ওই পরিবারের আরও দুই সদস্য—বাবা ও বোন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। গতরাত (রোববার) সাড়ে ৯টার দিকে দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের দিলপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে নৃশংসতা
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, নিহত নারীর নাম লাকী বেগম। তাঁর ২১ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ রাফিক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। রোববার রাতে রাফিক বাড়িতে ফিরে মাদক সেবনের জন্য তাঁর মায়ের কাছে টাকা দাবি করেন। মা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাফিক ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে ছুরি বের করে সরাসরি মায়ের ওপর আক্রমণ করেন।
বাবা ও বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
রাফিক যখন তাঁর মাকে ছুরিকাঘাত করছিলেন, তখন তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন ছোট বোন মিথিলা মোস্তফা (১৮)। পিশাচ রাফিক তাঁর বোনকেও ছাড়েননি; তাঁকেও এলাপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। চিৎকার শুনে বাবা মোহাম্মদ মোস্তফা (৫৫) তাঁদের রক্ষা করতে গেলে তাঁকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাফিক। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা এসে রাফিককে ঘরে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন।
হাসপাতালের ভাষ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাকী বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহরিয়ার কবির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে লাকী বেগমের মৃত্যু হয়েছে। আহত বাবা ও মেয়ের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) পাঠানো হয়েছে।
অনলাইন থেকে কেনা ছুরিতেই খুন: ওসির বক্তব্য
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত রাফিককে আটক করেছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ধারালো ছুরি জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাফিক স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই ছুরিগুলো অনলাইন থেকে অর্ডার করে কিনেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডটি যে পরিকল্পিত ছিল, তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে রাফিকের এই স্বীকারোক্তিতে।
সমাজে মাদকের ভয়াবহতা ও সচেতনতা
ফেনীর এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, মাদকাসক্তি একটি সাজানো পরিবারকে কীভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও সুধীজনরা বলছেন, মাদকের সহজলভ্যতা এবং পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতার অভাবে তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে পা বাড়াচ্ছে। রাফিকের মতো যুবকদের হাতে পরিবারের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নের মুখে।

