১১ মে ২০২৬, সোমবার

বিধানসভায় বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হলেন মমতার বিশ্বস্ত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসন জিতে এবার প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে রাজ্যের সদ্য সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা রাজ্য সরকারের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজ কেন্দ্র ভবানীপুরে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ায় এবার আর বিধানসভায় প্রবেশের টিকিট পাননি।

অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁর নিজ কেন্দ্র বালিগঞ্জ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী শতরূপাকে ৬১ হাজার ৪৭৬ ভোটের বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করে জয় নিশ্চিত করেছেন। এই জয়ের মাধ্যমে টানা ১০ বার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের এক অনন্য রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। এর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর টানা এতবার বিজয়ী হওয়ার নজির নেই।

১৯৪৪ সালে জন্মগ্রহণ করা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যৌবনে মুষ্টিযুদ্ধ (বক্সিং) অনুশীলন করতেন। তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি হয়েছিল কংগ্রেসের মাধ্যমে। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি তৎকালীন কলকাতা পৌরসভায় চাকরি করতেন। কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুর থেকে তিনি জয়লাভ করেন। তবে কলকাতা কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতান্তরের জেরে তিনি দলত্যাগ করেছিলেন।

১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হওয়ার পর থেকেই দলটির সঙ্গে যুক্ত আছেন শোভনদেব। তিনি তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। বর্তমানে তিনি কলকাতা অটো-রিকশা চালক ইউনিয়নের সভাপতি। তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন ‘আইএনটিটিইউসি’ (INTTUC) তাঁরই নিজ হাতে গড়া।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর বিশ্বস্ততার সবচেয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। সেবার কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে প্রার্থী হয়ে জয়ী হওয়া সত্ত্বেও, তৃণমূল সভানেত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি আসনটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে খড়দহ আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি ফের বিধানসভায় ফিরে এসেছিলেন।

(সূত্র: এনডিটিভি)

সর্বশেষ নিউজ