মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। তরুণ পেসার নাহিদ রানার বিধ্বংসী বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ১৬৩ রানে পাকিস্তানকে অলআউট করে পঞ্চম দিনেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয় টাইগাররা।
প্রথম ইনিংস: শান্তর সেঞ্চুরি ও বাংলাদেশের সংগ্রহ
গত শুক্রবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ১০১ রানের ঝকঝকে সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের ভিত্তি পায় দল। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন মুমিনুল হক (৯১) এবং অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম (৭১)। এই তিন ব্যাটারের দৃঢ়তায় প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ।
মিরাজের ফাইফার ও পাকিস্তানের লড়াই
জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানও পাল্টা লড়াই চালায়। অভিষিক্ত আজান আওয়াইসের ১০৩ রানের সেঞ্চুরি সত্ত্বেও বাংলাদেশের স্পিন জালে আটকা পড়ে তারা। মেহেদী হাসান মিরাজ একাই তুলে নেন ৫ উইকেট। এছাড়া তাসকিন ও তাইজুল পান দুটি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত ৩৮৬ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস।
দ্বিতীয় ইনিংস: লিড বাড়িয়ে ইনিংস ঘোষণা
প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে সাবধানী শুরু করে বাংলাদেশ। আবারও ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন শান্ত (৮৬) ও মুমিনুল (৫৬)। ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক। পাকিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান।
নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিং ও বাংলাদেশের জয়
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান। বিশেষ করে তরুণ পেসার নাহিদ রানার গতির কাছে আত্মসমর্পণ করেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। রানা একাই ৫ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ইনিংস তছনছ করে দেন। শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। ১০৪ রানের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
সিরিজ সমীকরণ: পরবর্তী লক্ষ্য সিলেট
সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে থাকায় এখন ফুরফুরে মেজাজে টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি শুরু হবে আগামী ১৬ মে সিলেটে। ঘরের মাঠে সিরিজ জয়ের দারুণ সুযোগ এখন শান্তর দলের সামনে।

