যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার তাঁর রাজনৈতিক জীবনের কঠিনতম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বিপর্যয়কর ফলাফলের পর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি উঠেছে। নিজের মন্ত্রিসভার কয়েকজন মন্ত্রীসহ খোদ দলের অভ্যন্তরেই বিদ্রোহের সুর তীব্র হচ্ছে।
বিদ্রোহী এমপির সংখ্যা কত?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত লেবার পার্টির ৮০ জনেরও বেশি এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারকে পদত্যাগ করতে অথবা ক্ষমতা হস্তান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে বলেছেন। দলের অভ্যন্তরে এই অসন্তোষের প্রধান কারণ হলো—ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির এক হাজারের বেশি আসন হারানো এবং রিফর্ম ইউকে-র অভাবনীয় উত্থান।
স্টারমার পদত্যাগ করলে কী হবে?
যদি স্টারমার পদত্যাগ করেন, তবে লেবার পার্টির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়ম অনুযায়ী, যদি ২০ শতাংশ এমপি (প্রায় ৮০ জন) কোনো বিকল্প প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন, তবেই বর্তমান নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব। তবে মঙ্গলবার এক ক্যাবিনেট বৈঠকে স্টারমার জানিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং এই প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি।
দৌড়ে এগিয়ে আছেন কারা?
স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে মূলত তিনটি নাম আলোচনায় আসছে:
-
ওয়েস স্ট্রিটিং: বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
-
অ্যাঞ্জেলা রেনার: বর্তমান উপ-প্রধানমন্ত্রী।
-
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম: গ্রেটার ম্যানচেস্টারের বর্তমান মেয়র। যদিও বার্নহ্যাম বর্তমানে এমপি নন, যা তাঁর জন্য একটি বড় আইনি জটিলতা হতে পারে।
পরবর্তী নির্বাচন কবে?
২০২৪ সালের ৪ঠা জুলাই অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ৪১১টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন কিয়ের স্টারমার। বর্তমান নিয়মানুযায়ী, যুক্তরাজ্যের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের ১৫ই আগস্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হলে প্রধানমন্ত্রী রাজা তৃতীয় চার্লসের পরামর্শে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিতে পারেন।
বর্তমানে ব্রিটেনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল। স্টারমার শেষ পর্যন্ত নিজের গদি রক্ষা করতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
(সহযোগিতায়: সিনহুয়া ও দ্য গার্ডিয়ান)

