ভাড়া পরিশোধের বিনিময়ে যৌন নির্যাতনের সুযোগ দিলেন স্বামী! ৪ মাসের বকেয়া টাকার জন্য ভারতে পৈশাচিক কাণ্ড, গ্রেপ্তার ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
spot_img
spot_img

আর্থিক অনটন বা অভাব মানুষকে কতটা নিচে নামাতে পারে, তার এক চরম নির্মম ও পৈশাচিক দৃষ্টান্ত দেখল ভারতের গুজরাট রাজ্য। মাত্র কয়েক হাজার রুপি বকেয়া ঘর ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে নিজের আপন স্ত্রী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাসন্তানকে বাড়িওয়ালার লালসার শিকার হতে দিলেন এক ব্যক্তি। ভারতের গুজরাট রাজ্যের মোরবি এলাকায় এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে। ভাড়া পরিশোধের বিনিময়ে যৌন নির্যাতন-এর এই জঘন্যতম ঘটনায় অভিযুক্ত পাষণ্ড স্বামী এবং লম্পট বাড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

আর্থিক সংকট ও বাড়িওয়ালার পৈশাচিক চুক্তি

স্থানীয় পুলিশ ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী পরিবারটি মূলত গুজরাটের সুরেন্দ্রনগর জেলার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে প্রায় ছয় মাস আগে তারা মোরবি এলাকায় আসেন এবং প্রতি মাসে মাত্র ২ হাজার রুপি ভাড়ায় একটি বাসায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু চরম আর্থিক সংকটের কারণে গত চার মাস ধরে তারা বাড়িওয়ালাকে কোনো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি।

চার মাসের বকেয়া মোট ৮ হাজার রুপি ভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালা ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকলে পরিস্থিতি এক ভয়ঙ্কর ও অমানবিক রূপ নেয়। বকেয়া টাকার পরিবর্তে পরিবারের পুরুষ সদস্যটি (ভুক্তভোগী নারীর স্বামী) বাড়িওয়ালার সঙ্গে এক জঘন্য ও গোপন সমঝোতায় লিপ্ত হন। চুক্তি অনুযায়ী, টাকার বদলে নিজের স্ত্রী ও নাবালিকা কন্যাকে যৌন নির্যাতনের প্রকাশ্য লাইসেন্স বা সুযোগ দেন ওই ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, এই পৈশাচিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে লম্পট বাড়িওয়ালা মা ও মেয়ের ওপর একাধিকবার পাশবিক নির্যাতন চালায়।

শাশুড়ির সাহসিকতায় উন্মোচিত হলো অন্ধকার সত্য

দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই পৈশাচিক নির্যাতনের বিষয়টি একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারীর শাশুড়ির নজরে আসে। নিজের ছেলে ও বাড়িওয়ালার এমন জঘন্য কীর্তি দেখে তিনি স্তব্ধ হয়ে যান। তবে ঘরে লোকলজ্জার ভয়ে চুপ না থেকে তিনি সাহসিকতার পরিচয় দেন। দেরি না করে তিনি সরাসরি মোরবি থানায় হাজির হন এবং ছেলে ও বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

কঠোর পকসো (POCSO) আইনে মামলা ও তদন্ত

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে গুজরাট পুলিশ। মোরবি থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পাষণ্ড স্বামী এবং অপরাধের মূল হোতা বাড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন কঠোর ধারা ছাড়াও অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাকে নির্যাতনের দায়ে ভারতের কঠোর শিশু সুরক্ষা আইন ‘পকসো (POCSO)’-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও গভীর তদন্ত চলছে। পাশাপাশি পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হওয়া মা ও শিশুর মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভাড়া পরিশোধের বিনিময়ে যৌন নির্যাতন-এর এই ঘটনা সমগ্র ভারতের সামাজিক অবক্ষয়কে আরও একবার বিশ্বের দরবারে চরমভাবে লজ্জিত করেছে।

সর্বশেষ নিউজ