শ্রমিকদের ওপর হামলা, ১৫ বাস ভাঙচুর! কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

চাঁদপুর প্রতিনিধি
spot_img
spot_img

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে গভীর রাতে পার্কিংয়ে থাকা যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাসে অতর্কিত হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং পরিবহন শ্রমিকদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছেন পরিবহন শ্রমিকেরা।

গতকাল বুধবার (২০ মে ২০২৬) রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বলাখাল বাজার এলাকায় এই আকস্মিক হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়কে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুমিল্লা ও চাঁদপুর অভিমুখে যাতায়াতকারী হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী।

১৫টি বাস ভাঙচুর, হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন শ্রমিকেরা

পরিবহন শ্রমিক ও মালিক পক্ষের দাবি, বুধবার রাতে বলাখাল বাজার এলাকার একটি স্কুল মাঠে বোগদাদ ও আইদি পরিবহনের বেশ কয়েকটি বাস পার্কিং করা ছিল। রাতের অন্ধকারে একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে বাসগুলোর ওপর হামলা চালায়। তারা একের পর এক বাসের কাঁচ ও বডি ভাঙচুর করতে থাকে। এতে অন্তত ১৫টি বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্বৃত্তদের এই তাণ্ডব ও বাধা দিতে গিয়ে অন্তত ২০ জন পরিবহন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আহতদের মধ্যে ১২ জন জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত ৫ জন শ্রমিককে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

‘অন্ধকারের মধ্যে হঠাৎ ধেয়ে এল নরপশুরা’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাস চালক ও শ্রমিকেরা জানান, সারাদিনের ট্রিপ শেষে তারা স্কুল মাঠে গাড়িগুলো রেখে বাসের ভেতরেই বিশ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ চারদিক থেকে অন্ধকারের মধ্যে একদল দুর্বৃত্ত চিল্লাচিল্লি করে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শ্রমিকদের নির্মমভাবে মারধরের পাশাপাশি লোহার রড দিয়ে একের পর এক বাসের গ্লাস ভাঙচুর করা হয়।

বোগদাদ পরিবহনের সুপারভাইজার ইউসুফ ও ওমর ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই আকস্মিক হামলার পর সাধারণ পরিবহন শ্রমিকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। যতক্ষণ না এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন ও বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।”

এদিকে বলাখাল বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বেপারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রাতের অন্ধকারের মধ্যে কে বা কারা এই কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে গেছে যে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।”

নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান জানান, গভীর রাতে হামলার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি বড় দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতির কারণে বড় ধরণের কোনো সহিংসতা ছড়াতে পারেনি। বর্তমানে বলাখাল বাজার ও বাস টার্মিনাল এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পুনরায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের সুরক্ষায় মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলার এই ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট তদন্ত চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও শ্রমিকেরা তাদের দাবিতে অনড় রয়েছেন।

সর্বশেষ নিউজ