রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে নোবিপ্রবিতে মানববন্ধন

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
spot_img
spot_img

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের দ্বিতীয় শ্রেণির অবুঝ শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক যৌন লালসার শিকার বানিয়ে অত্যন্ত নৃশংস ও বীভৎস কায়দায় হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে দেশ। এই পৈশাতিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং দোষীদের অবিলম্বে ফাঁসির দাবিতে এবার রাজপথে নেমেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রশাসনিক ভবনের সামনে রামিসা হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত ও যৌক্তিক মানববন্ধনে সংহতি এবং একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণ

আজ বেলা বাড়ার সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় পুরো ক্যাম্পাস “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” (We want justice), “আছিয়া থেকে রামিছা—কোর্ট কাছারি সব মিছা”, এবং “ধর্ষকদের ফাঁসি চাই” সহ খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে দেওয়া বিভিন্ন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে সমাজে এই ধরণের হায়েনাদের ঔদ্ধত্য দিন দিন জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

জামিন পেয়েই ফের খুন! বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘শব্দ কুটির’-এর সভাপতি মুজতবা ফয়সাল দেশের বিচার ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে ধর্ষণ ও হত্যা বিরোধী যে আইনগুলো রয়েছে, সেগুলোর কার্যকারিতা এবং আইনি প্রক্রিয়া এত বেশি ঢিলেঢালা যে, বিচার পেতে পেতে বছরের পর বছর কেটে যায়। আর এই দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে বড় বড় অপরাধীরাও কোনো না কোনোভাবে জামিন বা মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে।”

তিনি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উল্লেখ করে আরও বলেন, “আপনারা শুনলে অবাক হবেন, এই শিশু রামিসাকে যে নরপশুটি ঠান্ডা মাথায় জবাই করে হত্যা করেছে, সেও কিছুদিন আগে অন্য একটি অপরাধের মামলায় জেল খেটে জামিনে ছাড়া পেয়ে বের হয়েছিল। অর্থাৎ, আমরা রাষ্ট্রগতভাবে এই অপরাধীদের স্থায়ী শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পারছি না বলেই আজ রামিসার মতো জান্নাতের পাখিদের অকালে প্রাণ দিতে হচ্ছে।”

এসিড সন্ত্রাস দমনের মডেলে দ্রুত বিচারের দাবি

ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনকে বর্তমান সমাজের একটি মহামারি হিসেবে উল্লেখ করে মুজতবা ফয়সাল সরকারের প্রতি একটি সফল মডেল অনুসরণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমাদের ইতিহাসের সামনে একটি স্পষ্ট ও সফল উদাহরণ আছে। আমরা জানি, ২০০০ সালের পর বাংলাদেশে এসিড নিক্ষেপ একটি মহামারি আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু তৎকালীন সময়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ও দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে সেই এসিড সন্ত্রাসকে সরকার তৎক্ষণাৎ সম্পূর্ণ দমন করতে পেরেছিল। বর্তমান শিশু ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের এই ভয়াবহ মহামারি রুখতে এসিড দমনের সেই সফল নীতিকে মডেল ধরে অতি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে।”

খাদিজা হলের ঘটনার তদন্ত দাবি ছাত্রদলের

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমরা আপনাদের সাথে যত রকমের যৌক্তিক দাবি আছে, তাতে সবসময় আছি এবং ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ থাকবো। ক্যাম্পাসের যেকোনো অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছাত্রদল একাত্মতা পোষণ করবে। আমরা রামিসা হত্যার দ্রুততম সময়ে ফাঁসি দাবি করছি।” এ সময় তিনি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিষয় টেনে বলেন, “গত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদিজা হলে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে, আমরা তা ইতিমধ্যে প্রোভিসি স্যারকে জানিয়েছি। যারাই ওই হলের ঠিকাদারের কাজের সাথে জড়িত এবং অনিয়ম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যেন তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

অন্যদিকে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক বলেন, “আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলতে চাই—দেশে এখন পর্যন্ত যতগুলো ধর্ষণের রায় বা ফাঁসির আদেশ হয়েছে, সেগুলোর কোনোটিই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার অভাবে কার্যকর করা হয়নি। অনতিবিলম্বে ২ দিনের মধ্যে রামিসা হত্যাকাণ্ডের খুনি ও ধর্ষকের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন।

সর্বশেষ নিউজ