বাবা মসজিদে যেতেই দেড় বছরের শিশুকে কুপিয়ে হত্যা করল মা! সিলেটে হাড়হিম করা কাণ্ড

ন্যাশনাল ডেস্ক
spot_img
spot_img

সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানা এলাকায় এক চরম অবিশ্বাস্য ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। নিজের দেড় বছর বয়সী অবুঝ ও ঘুমন্ত কন্যাসন্তানকে ধারালো দা দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন এক জন্মদাত্রী মা। ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথেই পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আজ শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে, শিশুটির বাবা ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পরপরই এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশুটির নাম মাইমুনা জান্নাত তোহা। সে জালালাবাদ থানাধীন কালারুকা গ্রামের আমির আলী ও সুবিনা বেগম দম্পতির একমাত্র কন্যাসন্তান। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘাতক মা সুবিনা বেগমকে (২৫) আটক করেছে।

‘নামাজ পড়তে যাওয়ার ১০ মিনিটেই সব শেষ’: আমির আলী

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত মাইমুনার বাবা আমির আলী প্রতিদিনের মতোই ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের মসজিদে যান। তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে ঘুমন্ত মাইমুনাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেন মা সুবিনা বেগম।

বুকফাটা আর্তনাদ করতে করতে শিশুটির বাবা আমির আলী বলেন, “সুবিনা বেশ কিছুদিন ধরে নানা অজানা রোগে আক্রান্ত ছিল। ঠিক কী রোগ, তা এখনো ডাক্তাররা ধরতে পারেননি, তবে আমরা নিয়মিত তাকে চিকিৎসা করাচ্ছিলাম। আমি ফজরের নামাজে চলে যাওয়ার পরপরই ঘরে থাকা দা দিয়ে আমার নিষ্পাপ মেয়েটাকে ও গলা কেটে খুন করে। আমার ছেলে যদি ভাগ্যক্রমে দৌড়ে ঘর থেকে না পালাত, তবে ওকেও আজ মেরে ফেলত সুবিনা।”

ছেলের দৌড়ে পালানো: অলৌকিক আত্মরক্ষা

আমির আলী আরও জানান, ঘটনার সময় তাদের বড় ছেলেও ঘরের ভেতর উপস্থিত ছিল। মায়ের এমন ভয়ঙ্কর ও বিকৃত রূপ দেখে সে ভয়ে চিৎকার দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে সোজা মসজিদের দিকে দৌড়ে পালায়।

সে মসজিদে গিয়ে জামাত শুরুর ঠিক আগে তার বাবাকে মায়ের এই তাণ্ডবের কথা জানায়। আমির আলী বলেন, “ছেলের মুখে এই অবিশ্বাস্য কথা শুনে আমি নামাজ না পড়েই দৌড়ে বাড়িতে আসি। এসে দেখি উঠানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এবং ঘরের ভেতর আমার ছোট্ট কলিজার টুকরো মাইমুনার রক্তাক্ত গলা কাটা দেহ পড়ে আছে।”

পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযান ও মরদেহ উদ্ধার

খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) জালালাবাদ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা শিশুটির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। একই সাথে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা উদ্ধারসহ ঘাতক মা সুবিনা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি-মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, “শিশু মেয়েকে নিজ হাতে গলা কেটে হত্যার দায়ে আমরা তার মাকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল শেষ করে লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কোন মানসিক বিকৃতি থেকে মা এই চরম পথ বেছে নিলেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

সর্বশেষ নিউজ