দেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প খাতের বিকাশ এবং বিদেশি মূলধন আকর্ষণ করার অংশ হিসেবে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বড় ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার সকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পন্ন করেছে জাপানের শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘মিতসুই অ্যান্ড কোং’ (Mitsui & Co.)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল. বৈঠকে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে.
আজ বুধবার (৩ জুন ২০২৬) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়. বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের চূড়ান্ত রূপকল্প এবং বিনিয়োগের খাতসমূহ নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে.
খাদ্য, কৃষি ও আইসিটি খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণের নতুন ছক
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে. বৈঠকে মূল ফোকাস ছিল বাংলাদেশে খাদ্য, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি (Energy) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) খাতসহ বিভিন্ন উদীয়মান সেক্টরে জাপানের মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর বড় আকারের বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা এবং নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ.
উল্লেখ্য, জাপানি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোং লজিস্টিকস, টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, মেটাল বা ধাতু শিল্প, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং বিশ্বব্যাপী খাদ্য বাণিজ্যের মতো বৃহৎ সেক্টরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সফলতার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে. নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে তাদের এই উচ্চপর্যায়ের সফর দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
অনুমোদন ঝামেলা এড়াতে চালুর ঘোষণা ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (PMO) এবং নীতিনির্ধারণী নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে বাংলাদেশে এসে কোনো প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বা লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের শিকার না হন, সে জন্য বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে. জাপানি প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান প্রশাসন শতভাগ বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে.
বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা সহজীকরণ এবং লাইসেন্স বা অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সমস্ত সুযোগ-সুবিধাকে একটি একক ছাতার নিচে এনে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ (One-Stop Service)-এর আওতাভুক্ত করার বিশেষ আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. এর ফলে কোনো প্রকার বিলম্ব ও বিড়ম্বনা ছাড়াই জাপানি বিনিয়োগকারীরা তাদের কার্যক্রম দ্রুত শুরু ও সম্পন্ন করতে পারবেন.
বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ ও জাপানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা
আজকের এই বিশেষ ও নীতিনির্ধারণী বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেশের নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার.
অন্যদিকে, জাপানের মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ইউনিটের পরিচালক, এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাকোতো সাতো-এর নেতৃত্বে জাপানি প্রতিনিধি দলে আরও অংশ নেন একই ইউনিটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা. এছাড়া বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনিচিরো কাওয়ামোতো এবং প্রতিষ্ঠানটির ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান. দ্বিপাক্ষিক এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ফলে আগামীতে বাংলাদেশ-জাপান যৌথ বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা দুই দেশেরই.

