যশোরের শার্শায় প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, এজাহারনামীয় ৩ জন গ্রেফতার

যশোর কার্যালয়
spot_img
spot_img

যশোরের শার্শা উপজেলায় এক ওয়ান্টেড প্রবাসীর স্ত্রীকে ঘরে একা পেয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের ছোট বসন্তপুর গ্রামে এই পাশবিকতার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজে বাদী হয়ে পাঁচ লম্পটের নাম উল্লেখ করে শার্শা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং রাতেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ৩ জন গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

আজ সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে এই রোমহর্ষক ঘটনার বিবরণ ও আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন।

গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের পরিচয়

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া তিন আসামি হলেন—শার্শা উপজেলার নিজামপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া ঘোপ গ্রামের বাসিন্দা হাসিব আল হাসান (১৯), ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন (২৪) এবং একই গ্রামের মেহেদি হাসান টুটুল (২৫)।

এই মামলার অপর দুই দুর্ধর্ষ আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬) ও ইমন (২৪) ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

শার্শা ধর্ষণ মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী:

অপরাধের ধরণ ঘটনাস্থল গ্রেফতারকৃত আসামি পলাতক আসামি
সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকি। ছোট বসন্তপুর গ্রাম, শার্শা, যশোর।

১. হাসিব আল হাসান (১৯)

২. আব্দুর রহমান ইমন (২৪)

৩. মেহেদি হাসান টুটুল (২৫)

১. আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৬)

২. ইমন (২৪)

প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতেই ওত পেতে থাকা লম্পটদের থাবা

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ জুন দিবাগত গভীর রাতে ভুক্তভোগী ওই নারী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য নিজ ঘরের দরজা খুলে বাইরে বের হন। স্বামী প্রবাসে থাকায় বাড়িতে তিনি প্রায় একাই থাকতেন। এই সুযোগের অপেক্ষায় আগে থেকেই ওত পেতে ছিল স্থানীয় বখাটেরা।

নারী ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই ছোট বসন্তপুর গ্রামের আব্দুর রহমান ইমন ও মেহেদি হাসান টুটুলসহ ৫ জন লম্পট তার মুখ চেপে ধরে অস্ত্রের ভয় দেখায়। পরে চিৎকার করলে কেটে টুকরো টুকরো করার হুমকি দিয়ে তাকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে অসহায় ওই নারীকে তারা পর্যায়ক্রমে সংঘবদ্ধভাবে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। ঘটনার পর গৃহবধূকে এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য এবং বললে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে লম্পটেরা পালিয়ে যায়।

থানায় মামলা ও পুলিশের ঝটিকা অ্যাকশন

পৈশাচিক এই ঘটনার পর লোকলজ্জা ও প্রাণভয়ের ধাক্কা সামলে উঠে ভুক্তভোগী নারী শার্শা থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করেন।

ওসি আরও জানান, “অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করি। এরপর রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ৩ আসামিকে আটক করা হয়। আজ সোমবার তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সাথে ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” পলাতক বাকি দুই আসামিকে যেকোনো মূল্যে গ্রেফতার করতে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সর্বশেষ নিউজ