শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মানিকগঞ্জের বিখ্যাত ‘হাজারি গুড়’ এখন ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিবন্ধন সনদ প্রদান করেছে। এর ফলে হাজারি গুড় দেশের ৬৪তম জিআই পণ্য হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা লাভ করলো।
হাজারি গুড়ের অনন্য বৈশিষ্ট্য
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও গোপীনাথপুর এলাকার খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত বিশেষ রসে তৈরি হয় হাজারি গুড়। এর স্বাদ ও সুগন্ধ অনন্য, যা হাজারি গুড়কে অন্যান্য গুড় থেকে আলাদা করেছে।
-
উৎপাদন প্রক্রিয়া: ১ কেজি গুড় তৈরিতে লাগে ১০ থেকে ১২ লিটার কাঁচা খেজুরের রস।
-
মূল্য ও বাজার: এর অসাধারণ চাহিদার কারণে প্রতি কেজি ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। স্থানীয় প্রায় ২৮টি পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
-
ঐতিহাসিক খ্যাতি: জনশ্রুতি আছে, ইংল্যান্ডের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথও এই গুড় খেয়ে প্রশংসা করেছিলেন।
জিআই স্বীকৃতির গুরুত্ব
জিআই সনদ পাওয়ার ফলে হাজারি গুড়ের ব্র্যান্ড পরিচিতি ও বিশ্ববাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে গেল। জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, এই স্বীকৃতি পণ্যটির স্বকীয়তা আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষিত করবে এবং স্থানীয় উৎপাদকদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, নকল পণ্যের বিস্তার রোধ এবং পণ্যের সুনাম ধরে রাখতে এই জিআই মর্যাদা কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

