ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি: রাজনৈতিক ‘দুঃস্বপ্নে’ কোণঠাসা নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক টেবিল
spot_img
spot_img

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য এক বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে প্রধান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে যে নিরাপত্তা কৌশল সাজিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তাকে করেছে দৃশ্যত বিচ্ছিন্ন ও অপমানিত। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের মিত্রতার সম্পর্কে এখন বড় ধরনের ফাটল।

মিত্রের সঙ্গে দূরত্ব ও সংকট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি উঠেছে। ইসরায়েলি সংসদ নেসেটে বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ একে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ব্যর্থতার চরম বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন। তার সামনে এখন দুটি কঠিন পথ: হয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত, নতুবা ইসরায়েলি স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়া।

কেন ব্যর্থ নেতানিয়াহুর কৌশল?

নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা কৌশলের বড় একটি অংশ ছিল ‘আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা’, যার মাধ্যমে তিনি ঝুঁকি নির্মূল করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন:

  • সামরিক ক্লান্তি: গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় দীর্ঘ যুদ্ধ ইসরায়েলি রিজার্ভ বাহিনীকে চরম ক্লান্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

  • উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যর্থতা: হেজবুল্লাহ বা ইরানকে নির্মূল করতে না পেরে উল্টো তেহরানের আঞ্চলিক প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • কূটনৈতিক একাকীত্ব: অতীতে কংগ্রেসের ওপর প্রভাব খাটিয়ে যে কাজ হাসিল করতেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই পথ প্রায় বন্ধ।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও ভবিষ্যৎবাণী

অক্টোবরের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর নীরবতা এবং কট্টরপন্থী মন্ত্রীদের ক্ষোভ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসরায়েলের ইরান নীতি পুনর্মূল্যায়নের সময় এসেছে। এমন এক বাস্তবতায় নেতানিয়াহু দাঁড়িয়ে আছেন যেখানে তার প্রধান শত্রু তেহরান নয়, বরং তার নিজের মিত্র ওয়াশিংটনের সঙ্গেই তাকে বোঝাপড়া করতে হচ্ছে।

সর্বশেষ নিউজ