দেশে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে আয়োজন নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনিক প্রস্তুতি, পরীক্ষা সংক্রান্ত সময়সূচি, রাজনৈতিক রূপরেখা এবং বছরের শেষের গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিকীসহ বেশ কয়েকটি সার্বিক পরিস্থিতির কারণে ভোটগ্রহণ পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অনলাইন ও প্রশাসনিক সূত্রগুলো বিশ্লেষণ করে নির্বাচন বিলম্ব হওয়ার পেছনে কিছু বিষয় জানা গেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। এই সময়ে বড় ধরনের জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচন আয়োজন করা রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিপুল সংখ্যক কেন্দ্র স্থাপন করা হয় দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে। পাশাপাশি প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষকরা। বছরের শেষ দিকে (নভেম্বর-ডিসেম্বর) বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা এবং বছরের শুরুতে (মার্চ-এপ্রিল) এসএসসি বা সমমানের পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার এই সময়সূচিতে কেন্দ্র বরাদ্দ ও শিক্ষকদের দায়িত্ব দিলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বছরের প্রথম প্রহরে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে পবিত্র রমজান মাস ও রোজা পরবর্তী ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ মানুষের রোজা রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এ সময়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বা ভোটগ্রহণ এড়িয়ে যাওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার ইচ্ছা পোষণ করলেও লজিস্টিক সহায়তা, অর্থ বরাদ্দ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সবুজ সংকেতের প্রয়োজন হয়। সার্বিক আর্থিক বরাদ্দ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রশাসনিক সমন্বয় পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় কার্যক্রম কিছুটা মন্থর হয়েছে।
বর্তমানে দেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্গঠন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং দলীয় বনাম নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন পরিচালনার রূপরেখা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটি সর্বসম্মত কাঠামো তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভোটের মাঠে নামা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুষ্ঠু, সংঘাতমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সমন্বিত নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করতেই অতিরিক্ত সময় লাগছে।
সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে ইসি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সকল প্রশাসনিক বাধা অতিক্রম এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ অনুকূলে এলেই নতুন তফসিল ঘোষণা করা হবে।
