একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম—এর খালাসের রায়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে যে, বিচারিক প্রক্রিয়ায় মারাত্মক ভুল হয়েছিল।
সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ বলেন, “উপস্থাপিত প্রমাণাদি এবং আইনি যুক্তি নতুনভাবে বিশ্লেষণের পর এটিই প্রতীয়মান হয় যে, তার বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত করার সিদ্ধান্ত ফৌজদারি আইনের মৌলিক নীতিমালার লঙ্ঘন ছিল। এ রায়ে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।”
বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ—এর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, ইমদাদুল হক, মো. আসাদুজ্জামান এবং ফারাহ মাহবুব।
রায়ে আরও বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো স্পর্শকাতর মামলায় যেভাবে অপর্যাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে সাজা দেওয়া হয়েছিল, তা ন্যায়বিচারের মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আদালত বলেন, “আমরা গভীর অনুশোচনার সঙ্গে স্বীকার করছি— পূর্ববর্তী রায়ে মামলার কাঠামোগত দুর্বলতা এবং প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি।
আদালতের আত্মসমালোচনামূলক এই রায়কে অনেকেই উচ্চ আদালতের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন, যা ভবিষ্যতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় সতর্কতা ও উচ্চমান বজায় রাখার বার্তা দেবে।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
রায়ের পর এটিএম আজহারের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, “আজ থেকে এটিএম আজহারুল ইসলাম আইনি দৃষ্টিতে সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে— সত্যের জয় হয়েছে, মিথ্যা হার মানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইতিপূর্বে জামায়াত ও বিএনপির ছয়জন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে এবং আরও কয়েকজন কারাগারে মারা গেছেন। আজহারুল ইসলাম সৌভাগ্যবান— তিনি বেঁচে ছিলেন, তাই ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
শিশির মনির দাবি করেন, এ রায়ের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের অতীত মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করা উচিত এবং সরকারের উচিত একটি রিভিউ বোর্ড গঠন করা, যেন যাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তাদের পরিবার ও জাতি ন্যায়বিচার পায়—বাবহ মৃত্যুর পরেও।
আদালতে উপস্থিত ছিলেন যারা
আজহারের পক্ষের আইনজীবী হিসেবে শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
জামায়াতের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, এটিএম মাসুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, এবং অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

