খাতুনগঞ্জে মসলার বাজার নিম্নমুখী: প্রচুর আমদানি ও পর্যাপ্ত সরবরাহে স্বস্তি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
spot_img
spot_img

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের মসলার বাজারে লক্ষ্য করা যাচ্ছে এক স্বস্তিদায়ক নিম্নমুখী প্রবণতা। সাধারণত কোরবানি ঈদের আগে গরম মসলার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার কথা থাকলেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাজারে আন্তর্জাতিক ও বৈধ উৎসের মসলার প্রচুর আমদানি ও পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার কারণে গত ১৫ দিনের ব্যবধানে দেশের বৃহত্তম এই পাইকারি বাজারে এলাচ, জিরা ও লবঙ্গের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে।

আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দামের অনুকূল পরিস্থিতি এবং দেশের বাজারে আমদানিকৃত পণ্যের ধারাবাহিক ও পর্যাপ্ত প্রবেশ সচল থাকায় এবার বাজারে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারেনি। ফলে চাহিদার বিপরীতে জোগান বেশি থাকায় মসলার মূল্যে এই ধারাবাহিক দরপতন ঘটছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

ঈদের আগে মসলার চাহিদা ও আমদানির চিত্র

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে গরম মসলার মোট চাহিদা প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টন। এর মধ্যে কেবল কোরবানি ঈদের আগের দুই মাসেই মোট চাহিদার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ মসলা বিক্রি হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ মসলাজাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে মূলত আমদানিনির্ভর। এলাচ প্রধানত আমদানি করা হয় গুয়াতেমালা ও ভারত থেকে। জিরা আমদানি হয় ভারত, তুরস্ক, সিরিয়া এবং আফগানিস্তান থেকে। লবঙ্গ আসে মাদাগাস্কার, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। দারুচিনি আমদানি করা হয় চীন, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কা থেকে। এছাড়া গোলমরিচ ও জয়ত্রীর মতো মসলাগুলো ভিয়েতনাম, ভারত এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে নিয়মিত আমদানি হয়ে থাকে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মসলার তুলনামূলক মূল্য হ্রাস:

মসলার নাম ও মান ১৫ দিন আগের দাম (প্রতি কেজি) বর্তমান বাজারদর (২১ মে ২০২৬) কেজিতে মূল্য হ্রাসের পরিমাণ
উন্নত মানের এলাচ (এলএমজি) ৩,৯০০ – ৪,১০০ টাকা ৩,৭০০ – ৩,৮০০ টাকা ২০০ টাকা কমেছে
আমদানিকৃত জিরা ৫৭০ – ৫৮০ টাকা ৫২০ – ৫৩০ টাকা ৫০ টাকা কমেছে
লবঙ্গ (পাইকারি দর) ১,৩০০ – ১,৩২০ টাকা ১,২৪০ – ১,২৬০ টাকা ৬০ টাকা কমেছে
দারুচিনি ৪ND০ – ৪৫০ টাকা ৪১০ – ৪২০ টাকা ৩০ টাকা কমেছে
শক্তিশালী সরবরাহ চেইন ও স্থিতিশীলতার আশা

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গত ১৫ দিন আগের তুলনায় আজ (২১ মে ২০২৬) মসলার মূল্যে বড় ধরনের হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। খাতুনগঞ্জের গরম মসলা আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজারে সরবরাহ চেইন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং উদ্বৃত্ত অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের সমন্বয় ও এলসি জটিলতা কাটিয়ে বৈধ আমদানিকারকরা প্রচুর পরিমাণ মসলা দেশে এনেছেন। বাজারে পর্যাপ্ত মজুত থাকায় এবং পাইকারি পর্যায়ে ক্রেতাদের চাহিদার বিপরীতে পণ্যের কোনো ঘাটতি না থাকায় দাম স্বাভাবিকভাবেই নিম্নমুখী।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রচুর আমদানি দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে পণ্যের ট্রাক নিয়মিত আসছে এবং পর্যাপ্ত মজুতের কারণে ঈদে মসলার বাজার স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ নিউজ