চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় এক ছাত্রদল নেতা ও তাঁর বান্ধবীকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে তীব্র উত্তেজনা ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘পর্দা কর্নার’ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে সম্প্রতি আলোচনা-সমালোচনায় আসা চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিফ রহমান এক তরুণীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে অবরুদ্ধ হন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাদের উদ্ধার করেন।
গত শনিবার (২৩ মে ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকার ঐতিহ্যবাহী ‘জে এম টাওয়ার’ সংলগ্ন একটি আবাসিক বাসা থেকে তাদেরকে আটক করে স্থানীয় জনতা।
গভীর রাতে জে এম টাওয়ারে স্থানীয়দের হানা
বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চবি ছাত্রদল নেতা সাকিফ রহমান গত শনিবার রাতে তাঁর এক বান্ধবীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন জে এম টাওয়ারের পাশের একটি ফ্ল্যাটে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে ওই বাসায় তাদের দুজনকে সন্দেহজনক ও বান্ধবীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবর ক্যাম্পাসের চারদিকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মধ্যরাতেই ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী জড়ো হতে শুরু করে, যার ফলে এক থমথমে ও বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টর দপ্তরে খবর দেয়। খবর পাওয়ামাত্রই চবি প্রক্টরিয়াল বডির একটি বিশেষ টিম কড়া নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অবরুদ্ধ দুজনকে জনরোষ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে।
‘পর্দা কর্নার’ ব্যঙ্গ এবং পূর্ববর্তী ক্যাম্পাস বিতর্ক
ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে, গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর উদ্যোগে সাধারণ ও পর্দাশীল নারী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে চবিতে একটি বিশেষ ‘পর্দা কর্নার’ বা হিজাব পরিবর্তন কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছিল।
উদ্বোধনের পর থেকেই চবি ছাত্রদলের এই শীর্ষ নেতা সাকিফ রহমান তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগকে তীব্র ব্যঙ্গ এবং সমালোচনা করে একটি পোস্ট দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মধ্যে সাকিফের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গভীর রাতে বান্ধবীসহ তাঁর এই আটকের ঘটনা চবি ছাত্ররাজনীতি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন করে ক্ষোভ, আলোচনা ও তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে চবি প্রক্টর দপ্তর
মধ্যরাতে চবি প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সাকিফ ও তাঁর বান্ধবীকে উদ্ধার করার পর ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলসমূহে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে করে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর বিশৃঙ্খলা বা ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা না ঘটে।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “২ নম্বর গেট এলাকায় গভীর রাতে স্থানীয়দের মাঝে এক ধরণের অসন্তোষ ও দুজনকে অবরুদ্ধ করার খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা দ্রুত সেখানে যান। যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এড়াতে আমরা দ্রুত ও আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের উদ্ধার করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষায় এই ঘটনার পেছনে আসল সত্য কী, তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

