আড়তে ফলের পাহাড়, খুচরায় উত্তাপ: ফলমণ্ডি ও পাহাড়তলীতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

চট্টগ্রাম কার্যালয়
spot_img
spot_img

জুন মাসের এই ভরা বর্ষায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ফলের আড়তগুলোতে এখন মৌসুমি ফলের সুবাস। কদমতলীর ঐতিহ্যবাহী স্টেশন রোডের ‘ফলমণ্ডি’ এবং পাহাড়তলী বাজারে প্রতিদিন ভোর থেকেই নামছে ট্রাকে ট্রাকে আম, কাঁঠাল আর আনারস। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাশাপাশি এবার খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাহাড়ি আম্রপালি ও হাড়িভাঙার জয়জয়কার। তবে আড়তদাররা বলছেন বাজারে ফলের অভাব নেই, অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ—পাইকারির সেই স্বস্তি খুচরা বাজারে এসে উধাও হয়ে যাচ্ছে।

শনিবার (২০ জুন) সকালে ফলমণ্ডির রেলওয়ে মেনস সুপার মার্কেটের আড়তগুলোতে দেখা যায়, শ্রমিকদের দম ফেলার ফুসরত নেই। একের পর এক আমের ক্রেট ও আনারসের খাঁচি আনলোড করা হচ্ছে। আড়তে এখন প্রতি কেজি আম্রপালি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা এবং হাড়িভাঙা ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের হিমসাগর ও ল্যাংড়া মিলছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে।

ফলমণ্ডির মেসার্স আল্লাহর দয়া স্টোরের আড়তদার শাহাবউদ্দিন বলেন, “এবার গরম আর বৃষ্টির কারণে সব অঞ্চলের আম একসঙ্গে পেকে গেছে। তার ওপর পাহাড়ের আমও বাজারে ঢুকেছে বিপুল পরিমাণে। সরবরাহ এত বেশি যে আমরা কম লাভে দ্রুত ছেড়ে দিচ্ছি, কারণ ফল বেশিদিন ধরে রাখা যায় না। পাইকারিতে আমের দাম গত কয়েক বছরের চেয়ে এবার অনেক কম।”

পাইকারি বাজারের এই স্বস্তির চিত্র কিন্তু একদম ভিন্ন রূপ নিচ্ছে নগরীর চকবাজার, বহদ্দারহাট কিংবা কাজীর দেউড়ির মতো খুচরা বাজারগুলোতে। আড়তে যে আম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, খুচরা বাজারে তা ১০০ থেকে ১২০ টাকার নিচে মিলছে না। মাঝারি আকারের একটি কাঁঠাল আড়তে ১৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও খুচরায় তা ৩০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রাঙামাটির এক জোড়া বড় আনারস আড়ত থেকে ৪০-৫০ টাকায় কেনা হলেও পাড়া-মহল্লার দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। পাইকারি ও খুচরায় এই বিশাল ব্যবধানের কারণ জানতে চাইলে বহদ্দারহাট বাজারের খুচরা ফল বিক্রেতা সবুজ মিয়া বলেন, “আড়ত থেকে কম দামে কিনলেও আমাদের খরচ অনেক। ফলমণ্ডি থেকে গাড়ি ভাড়া দিয়ে মাল আনা, বাজারের পজিশন ভাড়া, আর সবচেয়ে বড় কথা—সব ফল তো এক সমান থাকে না। দুই-তিন কেজি নষ্ট বের হলেই আমাদের লাভ শেষ। তাই কেজিতে ২০-৩০ টাকা লাভ না রাখলে ব্যবসা টিকবে না।”

এদিকে বাজারে ফলের এমন পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও দামের এই ফারাক নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। চকবাজারে ফল কিনতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী শহীদুল ইসলাম বলেন, “পত্রিকায় দেখি আড়তে আমের কেজি ৫০ টাকা, কিন্তু বাজারে এসে দেখি ১২০ টাকা। পাইকারি আর খুচরা বাজারের এই বিশাল গ্যাপ দেখার যেন কেউ নেই। তদারকি না থাকায় মাঝখান থেকে খুচরা বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছে, আর পকেট কাটছে আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের।” বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আড়ত থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা থাকলেও, গুটি কয়েক মধ্যস্বত্বভোগী ও খুচরা বিক্রেতাদের অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতাই দামের এই পার্থক্যের মূল কারণ। জেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিংই কেবল এই পরিস্থিতির সমাধান করতে পারে।

সর্বশেষ নিউজ