জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ ইস্যু, রাজধানী ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশের ভূমিকা, জুলাই হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতিসহ সাম্প্রতিক নানা বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমের সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে এখনও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছানো যায়নি।আইনশৃঙ্খলার আরও উন্নতি ঘটাতে ও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে? সেই বিষয়ে শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন : পটপরিবর্তনের পর যেভাবে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে, সেখান থেকে পরিত্রাণের জন্য পুলিশ অক্লান্ত পরিশ্রম করে রাজধানীর তালিকাভুক্ত ছিনতাইকারী, ডাকাত, চোরসহ বিভিন্ন অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। এর সুফল ঈদুল ফিতরের সময় দেশবাসী দেখেছে। তেমন কোনো ছিনতাই, চুরি, ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো এমনটাই জানান মো: সাজ্জাদ আলী তিনি বলেন বর্তমানে অল্প কয়েকটা ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ ভালো সময়ের সঙ্গে এটির আরও উন্নতি হবে।
নগরবাসী যেমন অতীতেও আইনশৃঙ্খলাজনিত নানা সংকটে পুলিশের পাশে দাঁড়িয়েছে। আইন প্রয়োগে সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। সামনের দিনগুলোতেও যেন নগরবাসীকে আমরা সবসময় আমাদের পাশে পাই। নগরবাসী পাশে থাকলে পুলিশ সব চ্যালেঞ্জ জয় করে রাজধানীকে সবসময় নিরাপদ রাখতে পারবে।
থানার সেবার মান এখন কেমন এই প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন ,কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই তিনি থানার সেবার মান বৃদ্ধিতে নির্দেশনা দিয়ে আসছেন।শুরুতে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। বর্তমানে থানার সেবার মান যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগে থানা পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করত, ভিকটিমদের হয়রানি করত। এখন আর সেই চিত্র নেই। থানায় মামলা করতে গিয়ে কারও ফেরত আসতে হচ্ছে না।
মামলা জটিলতা বাংলাদেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়.। এই জটিলতাকে কাটিয়ে পুরো সিস্টেম কে কার্যকরী করার জন্য সবশেষ মাসিক অপরাধ সভায়ও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনায় অবশ্যই মামলা নিতে হবে। কোনো ঘটনা আড়াল করা যাবে না। মামলার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলী।
এদিকে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে বলে উল্লেখ করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন পুলিশ সদস্যরা এই নির্দেশনাগুলো পালন করছে। ফলে সেবাপ্রাপ্তির প্রশ্নে তেমন কোনো অভিযোগ নেই।
আমাদের লক্ষ্য নগরবাসীর কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা। এখন আর পুলিশের মনোবল সংকট নেই।
বেশ কয়েকদিন হলো নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাঝেমধ্যেই ঝটিকা মিছিল বের করছে। ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন।সাধারণ জনগণের মাঝে আওয়ামী লীগের এমন ঝটিকা মিছিল বের করার বিষয়টি বেশ প্রভাব ফেলেছে।কয়েকমাস আগেই যারা গণহত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের
জন্য ব্যাপকভাবে আলোচিত সমালোচিত হয়েছে তাদের এই মিছিল ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ডিএমপির পদক্ষেপ কেমন হবে?
এই প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন প্রতিদিনই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারা হুট করেই সড়কে নেমে কয়েক মিনিট বিক্ষোভ করে চলে যাচ্ছে। নানাভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জনবিচ্ছিন্ন ও বেআইনি এসব সংগঠনের অপতৎপরতা রোধে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি আরও বলেন, নগরবাসীকে আহ্বান জানাব, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও তাদের সমভাবাপন্ন বিভিন্ন সংগঠনের বের করা ঝটিকা মিছিল নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। যারা মিছিল বের করছে-ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে তাদের পরবর্তি আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
সম্প্রতি ডিএমপি বলেছিলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা হচ্ছে, বর্তমানে রাজধানীতে কতজন চাঁদাবাজ রয়েছে এবং তারা কোন দলের সব বিষয়ে খোঁজ করা হচ্ছে।ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন , ঢাকায় চাঁদাবাজদের তালিকা অনেক লম্বা। আমরা ইতিমধ্যে সব ধরনের চাঁদাবাজের তালিকা করেছি। তালিকা ধরে ধরে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে অনেককেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তালিকার অন্যদেরও গ্রেফতার করা হবে। আমাদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা, অপরাধীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সে যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন।।চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় আনতে নগরবাসীর সহযোগিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমনটাই
মনে করেন ডিএমপি কমিশনার।
কেউ চাঁদা চাইলে নগরবাসী যদি পুলিশকে জানায়, সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
বলে উল্লেখ করেন শেখ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। অপরাধীরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিচয় ব্যবহার করে বাড়তি সুবিধা নিতে চায়। তবে চাঁদাবাজদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয় গণমাধ্যমের কাছে এভাবেই মত প্রকাশ করেন ডিএমপি কমিশনার।
রাজধানীতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের যে হত্যা মামলাগুলো দায়ের হয়েছে, সেগুলোর তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা কী? দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদন দিতে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না?এই প্রশ্নের জবাবে
শেখ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেনবৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
আন্দোলনের বিভিন্ন মামলা নিয়ে পুলিশের যে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে সে বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কমিশনার জানান, অনেক শহিদের মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়নি-সেগুলো করা হচ্ছে। শহিদদের শরীরে যে বুলেট পাওয়া গেছে, সেগুলোর ফরেনসিক করা হচ্ছে। কারণ বিচারের ক্ষেত্রে এই তথ্যপ্রমাণগুলো মুখ্য ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া অন্যান্য যত প্রমাণ প্রয়োজন সেগুলো জোগাড় করা হচ্ছে।

