পিকনিকের কথা বলে ডেকে নিয়ে শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক
spot_img
spot_img

আশুলিয়ার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২ সেমিস্টারের এক শিক্ষার্থীকে পিকনিকের কথা বলে ডেকে নিয়ে কোমল পানীয়র সঙ্গে ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের পর তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং মারধরের অভিযোগে তিন সহপাঠীসহ ৪ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান।

এর আগে মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর রাতেই অভিযান চালিয়ে চার শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার ভূইয়া (২৬), তাজুল ইসলাম তাজ (২৩), শ্রাবণ শাহা (২৩) ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষার্থী অন্তু দেওয়ান (২৮)। এদের মধ্যে অন্তু দেওয়ান গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ানের চাচাতো ভাই বলে জানা গেছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে পিকনিকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীকে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যায় তার সহপাঠীরা। পথিমধ্যে কোমল পানীয় ‘মোজোর’ সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খওয়ালে কিছুক্ষণ পর অচেতন হয়ে যান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে আসামিদের ফুলের টেকের ম্যাচে নিজেকে দেখেন ভুক্তভোগী এবং বুঝতে পারেন তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। এসময় ওই শিক্ষার্থী ডাকচিৎকার শুরু করলে আসামিরা ধারণকৃত ভিডিও ও অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াসহ এসিড দিয়ে মুখ ঝলসে দেওয়ার হুমকি দেয়। ঘটনার পর থেকে জিম্মি করে একাধিক ধাপে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৯৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, গত ৪ নভেম্বর তাকে আবারও শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসামিরা।

পরে গত ৬ নভেম্বর আসামি অন্তু দেওয়ানের নির্দেশনায় হুমকি ও অন্তু দেওয়ানের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাদের প্রস্তাবে রাজী না হলে ভুক্তভোগীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পড় দিয়ে টেনেহিঁচড়ে অন্তু দেওয়ানের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় আবারও বোতলে থাকা বিষাক্ত নেশা জাতীয় পানীয় ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক খেতে বাধ্য করে। ঘটনার পর অসুস্থ অবস্থায় কোনোমতে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন হয়ে পড়েন। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকরা গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যালে ভর্তি করেন।

অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বজন বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিলে আসামিরা আরো চড়াও হন।
চিকিৎসা শেষে আবার গত ২৬ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে গণবিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে আইন বিভাগের একাডেমিক কক্ষে গেলে আসামিরা সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া লিখিত অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরে মঙ্গলবার আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, এটা গত ৪ এপ্রিলের ঘটনা। ৪ জনের নাম উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে ১৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

 

সর্বশেষ নিউজ