‘এক ভোট মে ক্যায়া হোগা?’ – রাজনীতির ময়দানে বহুল
প্রচলিত এই ধারণাকেই যেন ভুল প্রমাণ করল ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন। দক্ষিণী সুপারস্টার থালাপতি বিজয়ের দল ‘তামিলাগা ভেত্তরি কাজ়হাগাম’ (টিভিকে)-এর প্রার্থীর কাছে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে গদি হারিয়েছেন ডিএমকের প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী আর পেরিয়াকারুপ্পান।
তিরুপ্পাত্তুর বিধানস
ভা কেন্দ্রের এই ফলাফল রোমাঞ্চের দিক থেকে রূপালি পর্দার থ্রিলার বা ব্লকবাস্টার সিনেমাকেও হার মানিয়েছে।
ভোট গণনার শ্বাসরুদ্ধকর ক্লাইম্যাক্স তিরুপ্পাত্তুর কেন্দ্রে শুরু থেকেই লড়াইটা ছিল সেয়ানে সেয়ানে। রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী পেরিয়াকারুপ্পান জয় নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। ভোট গণনার শেষ রাউন্ডের আগ পর্যন্ত তিনিই এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ দৃশ্যটা ছিল চমকে দেওয়ার মতো। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, মন্ত্রীকে মাত্র এক ধাপ পেছনে ফেলে বাজিমাৎ করেছেন টিভিকে প্রার্থী শ্রীনিবাস সেতুপতি। শ্রীনিবাস পেয়েছেন মোট ৮৩,৩৭৫ ভোট, আর মন্ত্রী পেরিয়াকারুপ্পন থেমে গেছেন ঠিক ৮৩,৩৭৪ ভোটে। মাত্র ১ ভোটের এই ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় পেলেন বিজয়ের প্রার্থী।
জয়ের নেপথ্যে এক প্রবাসীর দেশপ্রেম! এই অবিশ্বাস্য জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছেন এক প্রবাসী ভোটার। শিবগঙ্গা জেলার বাসিন্দা মনিকন্দন শিবানান্থম কর্মসূত্রে ওমানের মাসকটে থাকেন। শুধুমাত্র নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে এবং পছন্দের দলকে জেতানোর তাগিদে সুদূর ওমান থেকে বিমানে চড়ে নিজ রাজ্যে ছুটে আসেন তিনি।
ফলাফল ঘোষণার পর উচ্ছ্বসিত মনিকন্দন সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন, তাঁর দেওয়া ওই একটি ভোটই আসলে সেতুপতির জয় নিশ্চিত করেছে। তিনি ভোট দিতে না এলে ফলাফল হয়তো ড্র হতো অথবা ডিএমকে মন্ত্রীই জিতে যেতেন।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর এভাবে এক ভোটে হেরে যাওয়া ক্ষমতাসীন ডিএমকে শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, রাজকীয় অভিষেকের পর তিরুপ্পাত্তুর জুড়ে এখন থালাপতি বিজয়ের কর্মী-সমর্থকদের উৎসবের আমেজ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, থালাপতি বিজয়ের রাজনীতি যে শুধু গ্ল্যামারসর্বস্ব নয়, বরং ভোটের মাঠেও তা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে— তিরুপ্পাত্তুরের এই ফলাফল তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। শ্রীনিবাস সেতুপতির এই এক ভোটের জয় তামিল রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন রূপকথা হয়ে থাকবে।


