ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। আজ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি প্রদান করে বলেন, “এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাচার যেন পুলিশ বাহিনীকে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে সক্ষম না হয়।”
শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক প্রতিরোধ
বক্তব্যের শুরুতেই ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে রাজারবাগে শহীদ হওয়া পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বক্তা উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটি আমাদের সাহসের অনুপ্রেরণা। চট্টগ্রামের মেজর জিয়ার বিদ্রোহ এবং রাজারবাগের প্রতিরোধই মূলত স্বাধীনতার লড়াইকে বেগবান করেছিল। পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে এই ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের পুলিশ সদস্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী পুলিশ ও জনগণের প্রত্যাশা
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতিত ও অধিকারহারা মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে পুলিশের মূল লক্ষ্য হবে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের পেশাদারত্বের প্রশংসা করে বলা হয়, আমাদের পুলিশ বাহিনী এখন অনেক বেশি দক্ষ। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা ও মানবিকতা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

