ইরান এতদিন ধরে যে ‘সংযম’ প্রদর্শন করে আসছিল, তার অবসান ঘটেছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দেশটি। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের কোনো ট্যাংকার জাহাজে হামলা চালায়, তবে এর জবাবে সরাসরি মার্কিনিদের অবকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিতে শক্তিশালী পাল্টা হামলা চালানো হবে।
এক্সে (Ex) কড়া বার্তা রোববার (১০ মে) মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের পার্লামেন্টের বৈদেশিক নীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আমাদের জাহাজের বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ ও ঘাঁটিতে শক্তিশালী এবং কঠোর হামলার মাধ্যমে।”
যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তিনি আরও লেখেন, “যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের (স্থাপনা) সময় ফুরিয়ে আসছে। ভালো হবে যদি তারা বোকার মতো আচরণ না করে এবং যে চোরাবালিতে আটকা পড়েছে সেটিতে যেন আরও দেবে না যায়। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আত্মসমর্পণ এবং পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া। আপনাদের অবশ্যই নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।”
হরমুজ প্রণালিতে সেনাবাহিনীর সতর্কতা পার্লামেন্ট মুখপাত্রের এই বার্তার আগে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আক্রামি নিয়াও কঠোর সতর্কতা দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যেসব দেশ হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের সঙ্গে যোগ দেবে বা সমর্থন করবে, তাদের কোনো জাহাজ এই কৌশলগত প্রণালিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
সংঘাতের প্রেক্ষাপট ও যুদ্ধবিরতি উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলার পরদিনই কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। পরবর্তীতে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা ৪০ দিন সংঘাত অব্যাহত থাকে। অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এখনও বহাল রয়েছে। তবে নতুন করে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টির কারণে এই অঞ্চলে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
(তথ্যসূত্র: আলজাজিরা)

