তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চমক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এস কীরথানা। মাত্র ২৯ বছর বয়সে থালাপতি বিজয় নেতৃত্বাধীন ‘তামিলাগা ভেট্টরি কাজাগাম’ (টিভিকে) দলের কনিষ্ঠতম বিধায়ক হিসেবে গত রোববার (১০ মে) মন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন তিনি। বিরুধুনগর জেলার শিবাকাসি আসন থেকে জয়ী হয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি দলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন।
পেশাগত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পথচলা ১৯৯৬ সালে বিরুধুনগরে জন্মগ্রহণ করেন কীরথানা। প্রাথমিক শিক্ষা তামিল মাধ্যমের সরকারি স্কুলে শেষ করার পর, তিনি মাদুরাই কামারাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি কলেজ থেকে গণিতে স্নাতক হন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে পুদুচেরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগে কীরথানা রাজনৈতিক কৌশলবিদ ও ডিজিটাল প্রচার কৌশলবিদ হিসেবে ‘শো-টাইম কনসাল্টিং’ এবং ‘আইপ্যাক’-এর মতো স্বনামধন্য সংস্থায় কাজ করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি), তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এবং দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগামের (ডিএমকে) নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এম কে স্ট্যালিন এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর মতো শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে শাসনব্যবস্থা, প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে গভীর ধারণা দিয়েছে।
৫ ভাষায় অনর্গল দক্ষতা এই তরুণ বিধায়কের অন্যতম বিশেষত্ব হলো তামিল, ইংরেজি, হিন্দি ও তেলুগুসহ মোট পাঁচটি ভাষায় অনর্গল কথা বলার দক্ষতা। কীরথানার মতে, একাধিক ভাষা জানার কারণে তিনি বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পেরেছেন। হিন্দি শেখার কারণ হিসেবে তিনি জানান, এর মাধ্যমে ভারতের আরও বেশি মানুষের কাছে বিজয়ের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
শিবাকাসি আসনে ঐতিহাসিক জয় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে শিবাকাসি আসনে কীরথানা মোট ৬৮ হাজার ৭০৯ ভোট পান। তিনি কংগ্রেসের প্রার্থী আশোকান জি-কে ১১ হাজার ৬৭০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। উল্লেখ্য, গত সাত দশকের মধ্যে শিবাকাসি আসন থেকে নির্বাচিত তিনিই প্রথম নারী বিধায়ক, যিনি এআইএডিএমকে-র সাবেক এক মন্ত্রীকে পরাজিত করেছেন।
কেন টিভিকে-তে যোগ দিলেন? থালাপতি বিজয়ের দলে যোগ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কীরথানা বলেন, “টিভিকে এমন এক জায়গা, যেখানে সবার প্রবেশাধিকার রয়েছে। আমার কোনো রাজনৈতিক বা আর্থিক ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকা সত্ত্বেও আমি আজ এখানে পৌঁছাতে পেরেছি। মানুষের জন্য কাজ করার সদিচ্ছা থাকলে এখানে সবাইকে স্বাগত জানানো হয়।”

