জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস কি তবে অধরাই থেকে যাচ্ছে? অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির লড়াকু যোদ্ধা এবং তরুণ প্রজন্মের পরিচিত মুখ, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নাম ও বীরত্বগাথা আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্কুল পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রস্তুত করায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাইয়ের স্মৃতি রক্ষার রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতির মাঝে এই বাদ পড়ার ঘটনাটি শিক্ষা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
💡 দ্য হুক: যে অভ্যুত্থানের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশের কারিকুলাম পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে, সেই কারিকুলামের চূড়ান্ত ধাপেই বাদ পড়লেন খোদ অভ্যুত্থানের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড ওসমান হাদি!
‘শেষ মুহূর্তের’ অজুহাতে চাপা পড়ছে জুলাইয়ের বীরত্ব?
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি-র উচ্চপদস্থ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলাম ও বই মুদ্রণের প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছে গেছে। কর্মকর্তাদের দাবি, একদম শেষ সময়ে এসে নতুন কোনো বিষয় বা ঐতিহাসিক চরিত্রের পূর্ণাঙ্গ জীবনী যুক্ত করার মতো “কারিগরি সুযোগ” বোর্ডের হাতে নেই।
এনসিটিবি-র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো সংযোজন বা বিয়োজন করতে গেলে পুরো পাঠ্যক্রমের প্রকাশনা ও বিতরণ প্রক্রিয়া চরমভাবে ব্যাহত হতে পারে। মূলত এই কারিগরি জটিলতা এবং সময় স্বল্পতার যুক্তি দেখিয়েই ২০২৭ সালের বই থেকে তাঁর নাম বাদ রাখা হচ্ছে।
বিতর্কের নেপথ্যে: সমন্বয়হীনতা নাকি ভিন্ন সমীকরণ?
বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিটিবি-র এই ‘কারিগরি জটিলতার’ যুক্তি সচেতন নাগরিকদের একাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। কারণ, জুলাই অভ্যুত্থানের পর যেখানে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে সংস্কারের দাবি উঠেছে, সেখানে একজন প্রথম সারির শহীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে সময় স্বল্পতার অজুহাত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদিচ্ছাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। ২০২৭ সালের বইয়ে শহীদ ওসমান হাদির নাম না থাকাটা আগামী দিনে এনসিটিবি-র জন্য বড় ধরনের ছাত্র অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

