প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিটটি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ধাপে ধাপে বাড়ছে সক্ষমতা: সচল প্রথম ইউনিটও
বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি ও সমন্বয় সম্পন্ন করার পর ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ৩য় ইউনিটটি থেকে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে ধাপে ধাপে কারিগরি কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এটি থেকে ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে এই কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটিও সচল রয়েছে। তবে কারিগরি কারণে ইউনিটটি থেকে গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এখন প্রথম ও তৃতীয় ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকায় দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা অনেক বেশি শক্তিশালী হবে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন,
“প্রথম ইউনিটটি সীমিত সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছিল। এখন তৃতীয় ইউনিট চালু হওয়ায় কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও স্থিতিশীল হবে এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে।”
কয়লা খনির সংরক্ষণজনিত চাপ হ্রাসের উদ্যোগ
এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ আলম জানিয়েছেন, খনিতে উৎপাদিত কয়লা সংরক্ষণে যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো সমাধানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকল্প স্থানে কয়লা মজুতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সীমিত পরিসরে তা বাজারজাত করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আশপাশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর ইউনিট চালু হওয়ায় কয়লার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। এতে খনিতে উৎপাদিত কয়লার অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়বে এবং সংরক্ষণজনিত চাপও অনেক কমে আসবে।”
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, তৃতীয় ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটবে। উল্লেখ্য, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া দেশের অন্যতম প্রধান কয়লাভিত্তিক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

