গুজব ও অপপ্রচারকারীরা আসছে সাইবার আইনের আওতায়, ৪ মোবাইল কোম্পানির বকেয়া ১৩ হাজার কোটি: সংসদে মন্ত্রী

টেবিল প্রতিবেদন
spot_img
spot_img

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার, গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে কঠোর হচ্ছে সরকার। গুজব ও অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি দেশের ‘সাইবার সুরক্ষা আইন’-এ নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসনের এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

ফেইক আইডি ও গুজব কনটেন্ট ব্লক করার উদ্যোগ

সংসদে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত কাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বহুজাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করেছে। তিনি বলেন,

“বিটিআরসি থেকে ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক প্রভৃতি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ক্ষতিকর, ভুয়া ও গুজব কনটেন্ট অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ভুয়া আইডি শনাক্তকরণ ও অপপ্রচারকারীদের খোঁজার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।”

যশোর-৪ আসনের গোলাম রছুলের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেন যে, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বা গোয়েন্দা সংস্থার অনুরোধের প্রেক্ষিতে আপত্তিকর তথ্য-উপাত্ত বা সাইট ব্লক করার জন্য বিটিআরসি অপারেটরদের নির্দেশনা দেয়। তবে এই ধরনের কার্যক্রমের জন্য বিটিআরসির নিজস্ব কোনো প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি নেই।

সিম নিবন্ধনে আসছে ‘ফেশিয়াল রিকগনিশন’ প্রযুক্তি

মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা বন্ধে বিটিআরসি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস (MFS) ব্যবহারকারীদের নিবন্ধনের সঠিকতা যাচাইয়ে আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনার কার্যক্রম চলছে। এছাড়া মোবাইল সিম নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও নিটোল ও সুরক্ষিত করতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফেশিয়াল রিকগনিশন’ (Facial Recognition) বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ পদ্ধতি চালুর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চার মোবাইল কোম্পানির কাছে পাওনা ১৩,১৪৪ কোটি টাকা

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম দেশের মোবাইল অপারেটরদের বকেয়া রাজস্বের এক বিশাল খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ৪টি মোবাইল অপারেটরের কাছে সরকারের মোট ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব পাওনা রয়েছে।

অপারেটরভিত্তিক বকেয়ার বিবরণী নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো:

মোবাইল অপারেটরের নাম বকেয়া রাজস্বের পরিমাণ অডিট আপত্তি ও বকেয়ার বিবরণ
গ্রামীণফোন (GP) ৬,১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা অডিট আপত্তি ছিল ৮,৪৯৪ কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশে ২ কিস্তিতে ২,৩৯২ কোটি টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে।
টেলিটক (Teletalk) ৫,৯৫৪ কোটি টাকা লাইসেন্স ফি, স্পেকট্রাম ফি ও প্রশাসনিক জরিমানা বাবদ বকেয়া। ৫,৫৫৪ কোটি টাকা ইকুইটি কনভার্সনের আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন।
রবি আজিয়াটা (Robi) ৬১৫ কোটি টাকা অডিট ও মূসক বাবদ মোট পাওনা ছিল ৬৭৮ কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশে ৫ কিস্তিতে ১৮৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। বাকি টাকার মামলা চলমান।
বাংলালিংক (Banglalink) ৪৭৩ কোটি টাকা অডিট আপত্তি ও মূসক বাবদ পাওনার মধ্যে ইতোমধ্যে ৩৮১ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। অবশিষ্ট অংশ নিয়ে আদালতে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
বিটিসিএল-এর গ্রাহক খতিয়ান

এদিকে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানান, সরকারি ল্যান্ডফোন সংস্থা বিটিসিএল (BTCL)-এর বর্তমানে সচল টেলিফোন গ্রাহকের সংখ্যা ৩ লাখ ৪০ হাজার।

সর্বশেষ নিউজ