ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

টেবিল প্রতিবেদন
spot_img
spot_img

চীনের দালিয়ানে শুরু হওয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলন শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে তারেক রহমানের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সম্মেলনস্থল থেকে জানান, ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী যোগদান করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি সম্মেলনে আসা বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পারস্পরিক কুশল বিনিময় ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু করেছেন।’

‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা

এবারের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ বা ‘বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবন’। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আলোইস জভিংগি।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হাই-প্রোফাইল ফোরামে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্মেলনে অংশ নেওয়া চীনা বিনিয়োগকারীসহ বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিবেশ, নীতিগত সুবিধা এবং উদীয়মান অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিত ও প্রত্যক্ষ ধারণা লাভ করবেন, যা দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ভূমিকা রাখবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দাভোস সম্মেলনের আমন্ত্রণ

এর আগে মঙ্গলবার দালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ডব্লিউইএফ-এর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগি। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ কর-সুবিধা দেওয়া হয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে আলোইস জভিংগি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও গৃহীত পদক্ষেপ বৈশ্বিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও অর্থায়নকারী সংস্থাগুলোর আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

ডব্লিউইএফ প্রধান বাংলাদেশের উত্থাপিত অর্থনৈতিক বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং ফোরামের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। একই সাথে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আগামী বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

সর্বশেষ নিউজ