ইউরোপের একটি বিশাল অংশের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র তাপপ্রবাহ। এর মধ্যে ফ্রান্সে অতিরিক্ত গরম থেকে একটু স্বস্তি পাওয়ার আশায় নদী, খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে নামতে গিয়ে গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল ফ্রান্সই নয়, বরং যুক্তরাজ্য, ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও স্পেনও এখন তীব্র গরমে পুড়ছে। বেশ কিছু এলাকায় রেকর্ড তাপমাত্রার কারণে স্কুল ও গণপরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, আইফেল টাওয়ারসহ প্রধান প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ভেঙেছে ইতিহাসের সব রেকর্ড: ৫৮ বিভাগে রেড অ্যালার্ট
ফ্রান্সের আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক আবহাওয়াবিদ জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার দেশটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি শহরে পারদ ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়।
উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতিতে আবহাওয়া সংস্থাটি জানিয়েছে, ফ্রান্সের ৫৪টি বিভাগে ইতোমধ্যে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে, যা আজ বুধবার আরও বেড়ে ৫৮টিতে দাঁড়াবে। দেশজুড়ে ফরাসিদের একটু স্বস্তির খোঁজে খাল ও নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেখা গেছে। ফরাসি ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জানান, তীব্র গরম থেকে বাঁচতে মানুষের এই আকুলতা তিনি বুঝতে পারছেন। তবে একই সাথে অনুমোদনহীন বা বিপজ্জনক কোনো জলাশয়ে সাঁতার কাটার বিষয়ে তিনি সবাইকে সতর্ক করেছেন।
দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে ইউরো
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ তথ্য। সংস্থাটির মতে, বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ইউরোপ মহাদেশটি দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। এর ফলে ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে এমন দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহের ঘটনা সামনে আরও নতুন করে বাড়তে পারে।

