তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি ও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের আঞ্চলিক শক্তির মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর কোনো নির্ভরতা নয়, বরং ইসরায়েল সম্পূর্ণ এককভাবে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে বলে প্রকাশ্য হুংকার দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর। মার্কিন প্রশাসনের বর্তমান নরম কূটনৈতিক অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ইসরায়েলের স্থানীয় গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ৭ নিউজ’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর সরাসরি বলেন,
“আমেরিকানরা খুবই সরল বা বোকা যদি তারা মনে করে যে ইরানিরা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ইসরায়েলকে চিরতরে ধ্বংস করার স্বপ্ন পরিত্যাগ বা বাতিল করবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এই ইরানি হুমকির মুখোমুখি হওয়া এবং এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনে একাই সামরিক অ্যাকশনে যাওয়া এখন ইসরায়েলের নিজস্ব ও একক দায়িত্ব।
‘কোনো বন্ধুর নির্দেশ মানবে না ইসরায়েল’
ইতামার বেন-গভীর আমেরিকার সাথে তেল আবিবের বর্তমান কৌশলগত দূরত্ব বা নীতিগত মতভেদের বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েল অন্য কোনো দেশের কথায় বা অধীনে পরিচালিত হবে না। নিজের দেশের স্বাধীন ও আগ্রাসী প্রতিরক্ষা নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেন, “কোনো অবস্থাতেই ইসরায়েল কোনো বন্ধুর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হবে না, এমনকি সেই বন্ধু যদি সত্যিই অনেক বড় বা মহান (যুক্তরাষ্ট্র) হয়।”
মার্কিন-ইরান শান্তি প্রচেষ্টা ও ইসরায়েলের ফাটল
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর সূত্র ধরে জানা গেছে, কট্টরপন্থী এই মন্ত্রীর বিস্ফোরক বক্তব্যটি মূলত এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি কার্যকর করার জোর প্রচেষ্টা চলছে।
তেল আবিবের কট্টরপন্থী এই মন্ত্রীর এমন অনমনীয় অবস্থান পরিষ্কার করে যে, তেহরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ প্রতিরোধের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের বর্তমান আলোচনার কৌশলের সাথে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নীতি-নির্ধারকদের একটি বড় অংশের গভীর দ্বিমত ও কৌশলগত ফাটল তৈরি হয়েছে। ওয়াশিংটন যেখানে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছে, তেল আবিবের কট্টরপন্থীরা সেখানে একক যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে।

