খাটের নিচে দেহ, বাথরুমে মাথা! মিরপুরের শিশু রামিসা হত্যা নিয়ে পুলিশের লোমহর্ষক তথ্য ফাঁস

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

রাজধানীর মিরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গা শিউরে ওঠার মতো তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ধারণা অনুযায়ী, শিশুটিকে প্রথমে বিকৃত যৌনলালসার শিকার বানানো হয়। পরবর্তীতে সেই পাশবিক নির্যাতনের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ খণ্ডিত করে গুম করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। রামিসা হত্যা নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল ঘাতক ও তার সহযোগিতাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

নিহত রামিসা আক্তার স্থানীয় ‘পপুলার স্কুল’-এর দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা (তদন্ত প্রতিবেদনে জাকির হোসেন নামেও উল্লিখিত) এবং তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্নাকে ইতিমেধ্যই থানা পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

দরজার সামনে জুতা দেখেই মায়ের সন্দেহ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকালে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য তার মা তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তিনি পাশের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন। এতে তাঁর মনে গভীর সন্দেহের দানা বাঁধে যে, শিশুটি হয়তো ওই ফ্ল্যাটের ভেতরে রয়েছে।

তিনি তৎক্ষণাৎ ওই ফ্ল্যাটের দরজায় অনবরত ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন। কিন্তু ভেতর থেকে দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পাওয়ায় এবং দরজা না খোলায় মায়ের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ভবনের অন্য ভাড়াটিয়া ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। একপর্যায়ে সবাই মিলে জোরপূর্বক ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

মিরপুর শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিবরণ:

সূচক ও বিবরণ তদন্তের প্রাপ্ত তথ্য ও আলামত
ভিকটিম রামিসা আক্তার (৭ বছর), ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
হত্যার ধরণ শ্বাসরোধের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্নকরণ।
লাশের অবস্থা খাটের নিচে পড়ে ছিল দেহ, বাথরুমে লুকানো ছিল মাথা।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি মূল ঘাতক স্বামী (সোহেল রানা/জাকির) ও সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না।
লাশ খণ্ডিত করে গুমের চেষ্টা

প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢোকার সাথে সাথেই এক বীভৎস দৃশ্য দেখতে পান। ঘরের ভেতরে খাটের নিচে পড়ে ছিল শিশুটির নিথর দেহ এবং হাত ও মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে বাথরুমে ফেলে রাখা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, ফ্ল্যাটের ভেতরেই হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করে রক্তমাখা মরদেহটি বস্তাবন্দী বা অন্য কোনো উপায়ে সম্পূর্ণ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে টুকরো করা হয়েছিল।

জনতা যখন ঘরের দরজা ভাঙার চেষ্টা করছিল, ঠিক সেই সুযোগে ঘরের পেছনের জানালার লোহার গ্রিল কেটে দ্রুত পালিয়ে যায় মূল ঘাতক। তবে ঘরের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় তার স্ত্রী স্বপ্নাকে।

স্বামীকে পালাতে সুযোগ করে দেন স্ত্রী

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত স্ত্রী স্বপ্না স্বীকার করেছে যে, তার স্বামী বিকৃত মানসিকতা ও যৌনরুচি সম্পন্ন একজন ব্যক্তি। সে প্রায়শই তার ওপরেও নানা ধরণের শারীরিক নির্যাতন চালাত।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার সময় ঘরে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই উপস্থিত ছিল। বাইরে রামিসার মা যখন দরজায় ধাক্কা দিচ্ছিলেন, তখন মূল ঘাতক যেন পেছনের জানালার গ্রিল কেটে অনায়াসে পালিয়ে যেতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না ইচ্ছা করে দীর্ঘক্ষণ দরজা খোলেননি। স্বামী পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরেই তিনি দরজা খোলেন। ফলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি আলামত ধ্বংস ও সহযোগিতার দায়ে স্ত্রীকেও সমান অপরাধী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক মেডিকেল রিপোর্টের পর শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ নিউজ