‘তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—পল্লবীর শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার চাইলেন জামায়াত আমির

ডেস্ক রিপোর্ট
spot_img
spot_img

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) পাশবিক নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে মাথা কেটে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই বর্বরোচিত ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নরপশুদের অতি দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার (২০ মে ২০২৬) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাঁর ভেরিফাইড পেজে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি এই দাবি জানান। জামায়াত আমিরের এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত ফাঁসির দাবিতে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।

‘তুমি ছিলে মা-বাবার অপূরণীয় স্বপ্ন’

নিস্পাপ শিশু রামিসার অকাল ও মর্মান্তিক বিদায়ে গভীর সমবেদনা জানিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ফেসবুকে লেখেন, “প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি নিষ্পাপ ছিলে। তুমি এখনো বৃন্ত থেকে পুরোপুরি ফোটোনি। তুমি ছিলে তোমার মা-বাবা ও বোনের চোখজুড়ানো হৃদয়ের আবেগ ও ভালোবাসামাখা ভবিষ্যতের এক অপূরণীয় স্বপ্ন।”

পৈশাচিক লালসার শিকার হওয়া শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “তুমি চলে গেছ—তোমার চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে থাকবে। আমরা এই রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং এই নরপশু হত্যাকারীর শাস্তি অতি দ্রুত দেখতে চাই। আল্লাহ তা’আলা রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন। তার পিতা-মাতা, বোন এবং আপনজনকে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দিন। আমিন।”

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯间 মে) সকালে রাজধানীর পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে তার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। দরজার সামনে মেয়ের জুতা পড়ে থাকতে দেখে মায়ের সন্দেহের জেরে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, শিশুটিকে বিকৃত যৌনলালসার শিকার বানানোর পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতেই প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মাথা ও হাত কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। বর্তমানে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের নিয়ে ভয়ংকর তথ্য

এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে এক সফল অভিযানে প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা (৩০) এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ঘাতক জাকির অত্যন্ত বিকৃত মানসিকতার একজন ব্যক্তি। ঘটনার সময় ঘরের দরজা বাইরে থেকে যখন রামিসার মা ধাক্কা দিচ্ছিলেন, তখন মূল ঘাতক স্বামী যেন পেছনের জানালার লোহার গ্রিল কেটে অনায়াসে পালিয়ে যেতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না ইচ্ছা করে দীর্ঘক্ষণ দরজা খোলেননি। স্বামীকে পালাতে সাহায্য করায় স্ত্রী স্বপ্নাকেও এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সব মহল থেকেই এখন এই নরপশু দম্পতির দ্রুত বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি উঠছে।

সর্বশেষ নিউজ